নিজস্ব প্রতিবেদক:
মেলা আয়োজনকে কেন্দ্র করে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব মোঃ শহিদুল হক। একই সঙ্গে মেলা সংক্রান্ত অর্থ লেনদেন এবং মাহবুব হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন তিনি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শহিদুল হক বলেন, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ৪০ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা আয়োজনের বিষয়ে গত ৪ মার্চ রংপুর জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়। পরবর্তীতে সরকারি স্মারক নং-৩৪৪-এর মাধ্যমে বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন হয়। ৭ এপ্রিল মাহবুব হোসেনের সঙ্গে মেলা আয়োজনের চুক্তিনামা সম্পন্ন হয় এবং তাকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। তার দাবি, ২ মে মেলা পরিচালনার জন্য কমিটি গঠন ও রেজুলেশন করা হয় এবং ৬ মে জমি লিজ বাবদ আরও ৯০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ৪৫ দিনব্যাপী হস্ত ও কুটির শিল্প মেলা আয়োজনের জন্য আবেদন করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়। শহিদুল হক বলেন, গত ১৮ আগস্ট বিজয় দিবস উপলক্ষে ৬০ দিনব্যাপী হস্ত ও কুটির শিল্প মেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য ঢাকা থেকে একটি প্রতিনিধি দল রংপুরে আসে। তাদের থাকা-খাওয়াসহ বিভিন্ন খরচ মেলা সংশ্লিষ্টদের বহন করতে হয়। কিন্তু ২৩ আগস্ট মেলা অনুমোদনের প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হয়ে মাহবুব হোসেন প্রতিনিধি দলকে রংপুরে রেখে বাড়িতে চলে যান বলে দাবি করেন তিনি।
এরপর ২৪ আগস্ট মেলা কমিটির ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে মাহবুব হোসেন নিজ জ্ঞানে চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন শহিদুল। এ সংক্রান্ত চুক্তিনামা, রেজুলেশন, চেক, স্ট্যাম্পসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাদের কাছে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
শহিদুল হক আরও দাবি করেন, মেলা সংক্রান্ত পাওনা টাকা পরিশোধ না করার পায়তারা হিসেবেই মাহবুব হোসেন তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ সময় শহিদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, তিনি মাহবুব হোসেনকে কোনো ধরনের হুমকি-ধামকি দেননি। তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই তার বিরুদ্ধে হুমকি-ধামকির মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে প্রকৃত বিষয়টি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন শহিদুল হক। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, মাহবুব হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে একই ধরনের কৌশলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। টাকা দেওয়ার পর ফেরত না পাওয়া কিংবা প্রতিশ্রুত কাজ সম্পন্ন না হওয়ার অভিযোগ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে তারা জানতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই ছাড়া কাউকে অপরাধী হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে না জানিয়ে শহিদুল হক বলেন, অভিযোগগুলো সত্য হয়ে থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। গত ২৭ আগস্ট মাহবুব হোসেনের সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রসঙ্গে কৃষক দল নেতা শহিদুল হক বলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে নিরপেক্ষ তদন্ত করে চুক্তিনামা, রেজুলেশন, টাকা লেনদেনের কাগজপত্র, চেক ও স্ট্যাম্পসহ সংশ্লিষ্ট সবকিছু যাচাই করার দাবি জানান তিনি। তদন্তে কোনো অনিয়মের সঙ্গে তিনি জড়িত প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা মেনে নেবেন বলেও জানান শহিদুল হক।
তিনি দাবি করেন, মেলা সংক্রান্ত কোনো টাকা আত্মসাৎ বা অনিয়মের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে যার কাছে যে টাকা পাওনা রয়েছে, তা আইনগত ও ন্যায়সংগতভাবে নিষ্পত্তির দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের কারও একতরফা বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে উভয় পক্ষের বক্তব্য, কাগজপত্র ও প্রমাণ যাচাই করে সত্য ঘটনা জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
এ সময় গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব বুলবুল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। সর্বশেষ মেলা সংক্রান্ত পুরো অর্থ লেনদেন এবং মাহবুব হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব মোঃ শহিদুল হক।