নির্ধারিত আকারের চেয়ে ছোট পোনা সরবরাহের অভিযোগ, সরকারি অর্থ ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় সরকারি অর্থে পোনা মাছ কেনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। প্রতি কেজি ২৯০ টাকা দরে ২৪৬ কেজি পোনা মাছ কেনা হলেও স্থানীয় মৎস্যজীবীদের দাবি, একই ধরনের পোনা স্থানীয় বাজারে প্রায় ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যেতে পারে। শুধু ক্রয়মূল্য নয়, কর্মসূচিতে নির্ধারিত ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার আকারের পরিবর্তে ছোট পোনা সরবরাহের অভিযোগও উঠেছে। এতে সরকারি বরাদ্দের অর্থে পোনা মাছের ক্রয়মূল্য কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং নির্ধারিত আকার ও মান যাচাই করেই পোনা কেনা হয়েছিল কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) গঙ্গাচড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের বাস্তবায়নে উপজেলা পরিষদ পুকুরে পোনা মাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির আওতায় ২৪৬ কেজি পোনা মাছ প্রতি কেজি ২৯০ টাকা দরে কেনা হয়েছে। এতে মাছ ক্রয়ে মোট ব্যয় দেখানো হয়েছে ৭১ হাজার ৩৪০ টাকা। এ ছাড়া ভ্যাট বাবদ কাটা হয়েছে ৩ হাজার ৬৬০ টাকা। উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, গঙ্গাচড়া উপজেলায় পোনা মাছ অবমুক্তকরণের জন্য মোট ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। পোনা মাছ ক্রয় কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা। কর্মসূচির আওতায় কেনা পোনা মাছ উপজেলার ১৫টি জলাশয়ের মৎস্যজীবীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। স্থানীয় মৎস্যজীবীদের অভিযোগ, সরকারি অর্থে প্রতি কেজি ২৯০ টাকা দরে কেনা পোনার বাজারমূল্য এর তুলনায় অনেক কম। তাদের দাবি, স্থানীয় বাজারে একই ধরনের পোনা আনুমানিক ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যেতে পারে। তাদের প্রশ্ন, বাজারদরের সঙ্গে এত বড় ব্যবধানের কারণ কী এবং সরকারি অর্থে পোনা মাছ কেনার ক্ষেত্রে কোন বাজারদর, দরপত্র বা সরকারি নির্ধারিত মূল্য বিবেচনা করে প্রতি কেজি ২৯০ টাকা দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্রয়মূল্যের পাশাপাশি পোনা মাছের আকার নিয়েও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, কর্মসূচিতে ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার আকারের পোনা সরবরাহের কথা থাকলেও বাস্তবে বিতরণ করা পোনার অধিকাংশই নির্ধারিত আকারের চেয়ে ছোট। স্থানীয় একাধিক মৎস্যজীবী জানান, বড় ও নির্ধারিত আকারের পোনা জলাশয়ে অবমুক্ত করা হলে সেগুলোর টিকে থাকার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। বিপরীতে ছোট পোনা বিভিন্ন জলজ প্রাণীর শিকার হওয়াসহ নানা কারণে মারা যেতে পারে। তাদের প্রশ্ন, নির্ধারিত আকার ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার হলে এর চেয়ে ছোট পোনা কেন সরবরাহ করা হলো এবং যদি পোনাগুলো নির্ধারিত আকারের না হয়ে থাকে, তাহলে সেগুলো কীভাবে প্রতি কেজি ২৯০ টাকা দরে গ্রহণ ও বিল পরিশোধের উপযোগী হিসেবে বিবেচিত হলো। অভিযোগের বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার বলেন, “পোনা মাছগুলো আমরা রংপুর তাজহাট সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার থেকে ক্রয় করেছি। ক্রয় কমিটিতে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সভাপতি এবং আমি সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।” তিনি আরও বলেন, সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পোনা মাছ ক্রয় করা হয়েছে।
স্থানীয় মৎস্যজীবীদের দাবি, সরকারি বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হয়েছে কি না, প্রতি কেজি ২৯০ টাকা দরের যৌক্তিকতা কী এবং নির্ধারিত আকার ও মানের পোনা সরবরাহ করা হয়েছে কি না—তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা দরকার। একই সঙ্গে পোনার ক্রয়মূল্য নির্ধারণের ভিত্তি, আকার ও মান যাচাইয়ের প্রক্রিয়া এবং সরবরাহকৃত পোনার পরিমাণ জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা। পোনা মাছ অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান তালুকদার, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (রিজার্ভ) রবিউল করিমসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।