তারেক রহমানকে কটুক্তি অভিযুক্ত কামালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এসপির নির্দেশ

2026-09-13 10:11:14
news-picture

ঢাকা অফিস:

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে কটুক্তি, কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য, ব্যাঙ্গচিত্র প্রকাশ করে অপপ্রচার ও বিএনপির দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতের মামলাসহ প্রায় ২৯টি মামলার অন্যতম পলাতক আসামি প্রতারক কামাল প্রধানের অনুসন্ধান করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছে নারায়ণগঞ্জের নবাগত পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান। ১২ সেপ্টেম্বর এক লিখিত অভিযোগের কারণে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসিকে এ আদেশ দেন নারায়ণঞ্জের নবাগত এসপি।

লিখিত অভিযোগে জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার জালকুড়ি মাজার রোড এলাকায় আত্মগোপনে থাকা একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি কামাল প্রধান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ফেক আইডি খুলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ও ব্যাঙ্গচিত্র প্রকাশ করায় ফতুল্লা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগটি আমলে নিয়ে পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নন্দন চন্দ্র সরকার ঢাকা সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে তদন্তের অনুমতির আবেদন করলে বিজ্ঞ বিচারক মোহাম্মদ সাইদুর রহমান গাজী সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে ননজিআর মামলা রুজু করে তদন্তের আদেশ দেন। কিন্তু তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা আসামির সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে কামাল প্রধানের ব্যবহৃত মোবাইল, ল্যাপটপ, কম্পিউটার কিংবা ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস জব্দ করতে পারেনি বরং মামলার বাদী বিএনপি কর্মী সোহেলকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য অপহরণের চেষ্টা করে চাঁদা দাবি করে। এক পর্যায়ে মব সৃষ্টি করে হামলা চালায় আসামি কামাল প্রধান ও তার বাহিনীর সদস্যরা। এ ঘটনায় আবুল প্রধানের ছেলে কামাল প্রধানকে আসামি করে নারায়ণগঞ্জ আদালতে আরও একটি সিআর মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মিঠুন সরকার তদন্ত করছে। কিন্তু পুলিশের তদন্তের ধির গতি এবং সাইবার অপরাধী কামাল প্রধানকে গ্রেফতারের অনিহার কারনে ভুক্তভোগী সোহেল আসামি কামাল প্রধানকে দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশনা চেয়ে তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ জানালে এসপি তাৎক্ষনিকভাবে ফতুল্লা থানার ওসিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। কিন্তু এসপি নির্দেশ থাকার পরও ফতুল্লা থানা পুলিশ আসামির বিরুদ্ধে কোন  ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি রহস্যজনক কারণে। পরবর্তীতে বিভিন্ন পন্থায় হয়রানীর শিকার হয়ে গত ৬ আগস্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নারায়ণগঞ্জ ও পুলিশ সুপারের বরাবর আরেকটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি। উপরোক্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অপপ্রচার ও ফেক আইডি সনাক্ত করতে অধিকতর তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে ঢাকা সিআইডি হেডকোয়ার্টারে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। উল্লেখ্য যে, একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি, ব্যাংক ও আদালতের সাথে প্রতারণা, জাল দলিল সৃজন, ভূমিদস্যুতা, মানব পাচার, চাঁদাবাজি ও ফেক আইডি দিতে চরিত্র হরণ সহ অসংখ্য অভিযোগে অভিযুক্ত কামাল প্রধান। 

পরিশেষে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় অবশেষে ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার বিএনপি দলীয় কর্মী সোহেলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এমদাদুল হককে পলাতক আসামি কামাল প্রধানের অনুসন্ধান করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন নারায়ণগঞ্জের নবাগত পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমান। এ ব্যাপারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি বলেন, এসপি মহোদয়ের নির্দেশনা পেয়েছি এবং আসামি কামাল প্রধানের বিরুদ্ধে যথাযথভাবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।