গঙ্গাচড়ায় কৃষি উদ্যোক্তার কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ

2026-09-18 16:54:01
news-picture
জমি দখলের চেষ্টা, আমগাছ কেটে ফেলা ও পুকুরে বিষ প্রয়োগের হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কৃষি উদ্যোক্তার নতুন কেনা জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা, চাঁদা দাবি ও চাঁদা আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে আমবাগান ও মৎস্য খামারের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। এ ঘটনায় খোকা মিয়া, পিতা আবুল হোসেন, ও সোনা মিয়া, পিতা—খোকা মিয়া-এর বিরুদ্ধে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ‘সীমান্ত এগ্রো অ্যান্ড ফিশারিজ’-এর স্বত্বাধিকারী রবিউল ইসলাম।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রবিউল ইসলাম প্রায় ছয় বছর ধরে গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের চর চল্লিশ সাল এলাকায় কৃষি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানের আওতায় আমবাগান ও পুকুরে মাছ চাষ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিদেশি জাতের আম চাষের মাধ্যমে কৃষি কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছেন তিনি।

সম্প্রতি কৃষি কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের জন্য তিনি প্রায় ৮৪ শতক জমি ক্রয় করে সেখানে নতুন করে আমগাছের চারা রোপণ করেন। অভিযোগকারীর দাবি, জমি কেনার পর থেকেই কয়েকজন ব্যক্তি ওই জমির দখল নেওয়ার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে তাঁর কাছে চাঁদা দাবি ও চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে রবিউল ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, নতুন লাগানো আমগাছের পরিচর্যা ও জমিতে কৃষিকাজ করতে গেলে তাঁকে বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে জমি দখল, আমগাছ কেটে ফেলা এবং পুকুরে বিষ প্রয়োগের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিউল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কৃষি ও মৎস্য খাতে বিনিয়োগ করে আসছেন। নতুন জমিতে আমবাগান গড়ে তোলার উদ্যোগের মধ্যে এমন বিরোধের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লা আল হাদী বলেন, “রবিউল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কৃষি ও মৎস্য খাতের সঙ্গে জড়িত। কোনো ব্যক্তি যেন আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে জমি দখল, গাছপালা বা কৃষি প্রকল্পের ক্ষতি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজর দেওয়া দরকার।”

লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও থানা বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক নুরুজ্জামান আলম বলেন, “রবিউল ইসলাম এলাকায় কৃষি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। নতুন করে জমি কিনে আমবাগান করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। চাঁদা দাবি, হুমকি বা জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা হয়ে থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

অভিযোগকারী রবিউল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে কৃষি ও মৎস্য খাতে বিনিয়োগ করে আসছি। নতুন জমি কিনে আমবাগান করার উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু জমি কেনার পর থেকেই বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং চাঁদা আদায়ের চেষ্টা চলছে। আমার আমবাগান ও পুকুরের ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর বলেন, “অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।