তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:
দুই চোখে দৃষ্টিশক্তি না থাকলেও ভিক্ষাবৃত্তি বেছে নেয়নি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শাহিনুর ইসলাম। মনের জোরে ও সুরের মুর্ছনায় গান গেয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন এই গ্রামগঞ্জের সংগীত শিল্পি। কাঁধে ঢোল, সঙ্গে ছোট্ট সাউন্ড বক্স নিয়ে বিভিন্ন হাট-বাজারে চলে মানুষের গান গেয়েই। সম্প্রতি এমন এক জটলা দেখা গেলো, রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ব্র্যাক অফিস মোড়ের বাজারে। খালি গলায় ঢোলের তালে মধুর সুরের গান গুনে বাজারের মানুষজন ও পথচারিরা কিছু সময় থমকে গিয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে গান শুনছেন। গানের পসরায় দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো শাহিনুৃরের কণ্ঠে গান শুনে মুগ্ধ হয়ে ১০-২০ টাকা করে তার হাতে দেন। আর সেই টাকায় শাহিনুরের সংসার চলে। শাহিনুরের সাথে কথা হলে সে জানায়, রংপুর সদও উপজেলার হরিদেবপুর ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া গ্রামে তার বাড়ি। প্রায় ১৮ বছর আগে বিয়ে করেছেন তিনি। তার এক মেয়ে শারমিন আক্তার (১৫) স্থাণীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণীতে ও ছেলে শামীম ইসলাম (১৩)পঞ্চম শ্রেনীতে পড়েন। সহায়সম্বল বলতে ৩ শতক জমিতে একটি টিনের ভাঙাচোরা ঘর। চোখে না দেখায় কোন কাজ করতে পানে না। তাই বিয়ের পর জীবিকা হিসাবে গান গাওয়াকে বেছে নেন। প্রতিদিন গান গেয়ে যে তিন থেকে চাশ টাকা আয় করেন, তা দিয়েই তার সংসার চলে। ব্র্যাকে মাড় বাজারের পাপন দÍ্ বলেন, অন্ধ হলে কী হবে। তার গলায় সুর আছে। তার গাওয়া লালন গীতি, ভাওয়াইয়া গান গুলো জীবনের সাথে মিলে যায়। ওই বাজারের আব্দুর রাজ্জাক বলেন, প্রতি মাসে একদিন এসে এখানে গানের পসরা বসায় সে। আমরা তার গান শুনে খুশি হয়ে ৫-১০ টাকা দিই। এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপের সময় শাহিনুর বলেন, একজন মানুষ হিসাবে এটিই আমার কমতি সেটা হলো- আল্লআহ শুধু আমার চোখের দৃষ্টিশক্তিটুকু দেয়নি। তবুও আল্লাহর প্রতি আমার কোন ক্ষোভ নেই। তিনি আমার কণ্ঠে সুর দিয়েছেন। আর সেই কণ্ঠে গান গেয়ে মানুষককে আনন্দ দিয়ে যা আয় করছি, তা দিয়ে সংসার চলে যাচ্ছে। সরকার থেকে কিছ ভাতা পাই কিন্তু তা দিয়ে চলে না।