ভূমি অধিগ্রহনে বিলম্ব মেয়াদ শেষে ছয় বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি দাশেরহাট বাইপাস সড়ক

2026-10-08 21:16:43
news-picture

আহসান হাবীব নীলু, কুড়িগ্রাম:

মেয়াদ শেষে ছয় বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ কুড়িগ্রামের বাইপাস সড়ক। ধরলা ব্রীজের পশ্চিম প্রান্তের   বীরপ্রতীক তারামন বিবির মোড় থেকে দাশেরহাট পর্যন্ত এই বাইপাস সড়কটি নির্মিত হলে কুড়িগ্রামের যানজট কমানো সম্ভব হবে । কমবে দুর্ঘটনা। কিন্তু দুঃখের বিষয় দৃশ্যমান ৩টি কালভার্ট ও একশ মিটার সড়ক ছাড়া ছয় বছরে এই প্রকল্পের তেমন কোন অগ্রগতি নেই।

ভূমি অধিগ্রহনে বিলম্বের কারণে ১৮৯ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজে নেই গতি। ক্রমেই বাড়ছে জনভোগান্তি।

এ প্রকল্পের মুল লক্ষ্য ছিলো কুড়িগ্রাম শহরের যানজট নিরসন ও সোনাহাট স্থল বন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহন সহজতর করা।  এই প্রকল্পটি গ্রহন করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে ৬৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ কুড়িগ্রাম, নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী সোনাহাট স্থলবন্দর জাতীয় মহাসড়ক প্রশস্ত করার প্রকল্পটি অনুমোদন হয় একনেকে।  এই সড়কটির অন্তর্ভুক্ত বীরপ্রতীক তারামন বিবির থেকে দাশেরহাট পর্যন্ত ৪ দশমিক ৮  কিলোমিটার দীর্ঘ বাইপাস সড়ক। বাইপাস সড়কটির জন্য প্রায় ৪১ একর জমি অধিগ্রহনে ব্যয় হবে ১০১ কোটি টাকা। সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৮ কোটি টাকা। ভূমি অধিগ্রহন সম্পন্ন না করেই ২০২১ সালেই ঠিকাদার নিয়োগ ও কাজ শুরু করা হয়। ঠিকাদার নিযুক্ত হন এমএম বিল্ডার্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ার প্রাইভেট লিমিটেড ও মো: আমিনুল হক প্রাইভেট লিমিটেড জেভি। মেয়াদ ছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বও পর্যন্ত। কিন্তু তারা তিনটি কালভার্ট নির্মাণ ছাড়া আর কোন অগ্রগতি করতে পারেনি।

সড়কের গতিপথ পরিবর্তনসহ নানা কারণে সময়মত কাজ না হওয়ায় ২০২৫ সালে আগের দরপত্র বাতিল করে নতুন করে দরপত্র আহবান করে সড়ক বিভাগ। নিযুক্ত হন ঠিকাদারী সংস্থা আমিনুল হক প্রাইভেট লিমিটেড।

২০২৬ সালের জুন মাসে কাজের মেয়ার নির্ধারণ করা হলেও সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও থমকে আছে প্রকল্পের কাজ।

সরেজমিন দেখা গেছে, দু’টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পাওয়ার পর তিনটি কালভার্ট ও তারামন বিবির মোড়ে একশ মিটার সড়ক উন্নয়ন করে। এরপর কাজ চলছে ধীর গতিতে।

জমির মালিকদের অভিযোগ, অধিগ্রহন করা জমির নোটিশ পাওয়ার পর কাগজপত্র জমা দিয়েও অধিগ্রহনের অর্থ পাচ্ছেন না অনেকেই। সদর উপজেলার চেরেঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা বিপুল চন্দ্র রায় জানান, তাঁর নামের ভুল সংশোধন করে কাগজপত্র জমা দেয়ার পরেও অধিগ্রহনের অর্থ পাননি। অধিগ্রহনের অর্থ না পাওয়ায় সরকারকে ভূমির মালিকানা বুঝিয়ে দিতে পারছেন না ওই গ্রামের বাবলু চন্দ্র সরকার, প্রদীপ চন্দ সরকার, সবুজ চন্দ্র সরকারসহ অনেকেই। এই গ্রামের বাসিন্দা জহুরুল হক জানান, বর্তমানে এই এলাকার জমি এক থেকে দেড় লাখ টাকা শতক বেচাকেনা হলেও সরকারি মূল্য ধরা হয়েছে মাত্র ১২ হাজার টাকা। তিনগুণ অর্থ দিলেও শতকে ৩৬ হাজার টাকার বেশি পাচ্ছেন না তারা। তাই ছয় মাস আগে নোটিশ পেলেও তিনি কাগজপত্র জমা দেননি।

জানা গেছে, এলাকাবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে সড়কটির গতিপথ পরিবর্তন, বিভিন্ন আপত্তি শুনানি, স্থাপনার সংখ্যা ও মূল্য নির্ধারণে বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করতে অনেকটা বিলম্ব হয়েছে। সেই জটিলতা কাটছেই না।

কুড়িগ্রাম ভূমি অধিগ্রহন কর্মকর্তা ও রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর শেখ মাহবুবে সোবহানী জানান, নামজারি, মালিকানা ও মামলাসহ নানা কারণে বিলম্ব হলেও অধিগ্রহনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদনকারীদের পর্যায়ক্রমে ক্ষতিপুরণের টাকা দেয়া হচ্ছে।

এদিকে বাইপাস সড়কটি নির্মাণে বিলম্ব হওয়ায় বিদ্যমান সড়টি ভেঙে যান চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সদর উপজেলার চেরেঙ্গা গ্রামের অটোচালক  মমিনুল ইসলাম জানান, ছয় বছর ধরে বাইপাস সড়ক নির্মাণের কথা শুনছেন, কাজের অগ্রগতি নেই। পুরোনো সড়কটি দিয়ে অটো রিকশাও চালানো যাচ্ছে না। প্রায় দুর্ঘটনা ঘটছে। রাতের বেলা কোনভাবেই এই সড়কে চলাচল করা সম্ভব না। 

স্কুল শিক্ষক শাহজাহান মিয়া জানান, এই সড়কটি চালু হলেও শহরের যানজট নিরসনের পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে ব্যবসা বাণিজ্য প্রসারের আশা করছে এলাকার মানুষ।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলীরা জানান, মূলত অধিগ্রহনের টাকা বুঝে না পাওয়ায় জমির মালিকরা পজেশন ছেড়ে দিচ্ছে না। একারণে থেমে আছে বাইপাস সড়কটির কাজ। এই প্রক্রিয়া আরো বিলম্ব হলে প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যয়ও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বীরপ্রতীক তারামন বিবি মোড় থেকে দাশেরহাট পর্যন্ত বাইপাস সড়কটির নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। চলতি বছরের জুন মাসে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও প্রকল্পের মেয়াদ আরো বাড়ানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।