আহসান হাবীব নীলু, কুড়িগ্রাম:
সারা দেশে যখন শারদীয় দুর্গোৎসবের ঢাকের বাদ্য আর আনন্দের জোয়ার, তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেশের বৃহত্তম বিলুপ্ত ছিটমহল কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার দাসিয়ারছড়ায়। এখানে নেই কোনো মণ্ডপ, নেই ঢাকের আওয়াজ, নেই পূজোর কোনো আমেজ। বিগত তিন বছর ধরে এই ছিটমহলে বন্ধ রয়েছে দুর্গাপূজার আয়োজন। এক সময়ের উৎসবমুখর পরিবেশ এখন রূপ নিয়েছে এক নিভৃত বিষণ্ণতায়।
কুড়িগ্রাম জেলায় অবস্থিত ১২টি বিলুপ্ত ছিটমহলের মধ্যে ফুলবাড়ী উপজেলার দাসিয়ারছড়া অন্যতম। এর আয়তন ৬.৬৫বর্গকিলোমিটfর। বর্তমানে লোকসংখ্যা প্রায় ১০হাজার। এখানে ১হাজার ৩৬৪টি পরিবারের মধ্যে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পরিবার রয়েছে ৭৫/৮০টি। ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের পর বাংলাদেশের মূল ভূখন্ডের মধ্যে যুক্ত হওয়ার পর তিনবার এখানে শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছিল। এবারে ফুলবাড়ি উপজেলায় ৭২টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হলেও দাসিয়ারছড়ায় উদ্যোগ আর অর্থনৈতিক কারণে পূজোর আয়োজন বন্ধ হওয়ায় এখানকার অধিবাসীদের মধ্যে কিছুটা শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
দাসিয়ারছড়ার কামালপুর এলাকার গৃহিনী শ্রীমতি সুবর্ণা রানী দু:খ করে বললেন, ‘‘ঘরের কাছোত মণ্ডপ নাই, বাজি পোড়া নাই! ছওয়া-পওয়াগুলার মইধ্যে সেই আনন্দ আর নাই। কি আর করার কষ্ট করি দূর-দূরান্তত গিয়া কষ্ট করি পূজা করা নাগছে।”
একই এলাকার বিরোবালা জানান ‘এরআগে আমাদের বাড়ির সামনে এই জায়গায় পূজামন্ডপে দুর্গাপূজা আয়োজন করা হয়েছিল। এখন হিন্দু মানুষ কম। টাকা-পয়সার অভাবের কারণে এখানে আর পূজা হয় না।’কালিরহাট কালিমন্দির কমিটির সদস্য সুধন মোহন্ত জানান, ‘আর্থিক সংকট, উদ্যোক্তার অভাব, হিন্দু মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে আমরা গত তিন বছর ধরে আয়োজনটা করতে পারছি না ।
ফুলবাড়ী উপজেলার পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহবায়ক অমলচন্দ্র রায় জানান, ‘‘ফুলবাড়ীতে এবার ৭২টি মন্ডপে শারদীয় দূর্গাপূজা উৎসব মূখর পরিবেশে পালন করা হচ্ছে। এবারে বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ার ছড়ায় কোন পূজোর আয়োজন করা হয় নাই। আমরা এলাকার লোকজনের সাথে মতবিনিময় করেছি। তারা আগামিতে পূজো আয়োজন করবে বলে জানিয়েছেন।”
ছিটমহল বিলুপ্তির পর উৎসবের এই ঘাটতি দাসিয়ারছড়াবাসীর জন্য একটা শূন্যতা তৈরি করেছে। আগামী বছরগুলোতে সবার পৃষ্ঠপোষকতায় আবারও এখানে দেবী দুর্গার সুশোভিত মণ্ডপ তৈরি হবে, এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।