সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে.....রংপুরে তারেক রহমান

2026-10-20 22:57:38
news-picture

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার কাজে সবাইকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান-প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে সব ধর্ম, মত ও শ্রেণি-পেশার মানুষ সম্মিলিতভাবে ভূমিকা রেখেছেন। এই ঐক্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেলা ১২টায় প্রধানমন্ত্রী রংপুর মহানগরীর প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থিত ধর্মসভা মন্দিরে পৌঁছান। এ সময় তাঁকে দেয়া উষ্ণ অভ্যর্থনা শেষে আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এ সব কথা বলেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে দেশকে স্বাধীন করার জন্য একসঙ্গে লড়াই করেছেন। পরবর্তী সময়ে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সব ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছেন। একইভাবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও দেশের বিভিন্ন ধর্মের মানুষ নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজপথে নেমে এসেছিলেন।

তারেক রহমান বলেন, হাজার বছর ধরে এ দেশের মানুষ বিভিন্ন ধর্মীয় পরিচয় নিয়েও একসঙ্গে বসবাস করে আসছেন। ভবিষ্যতেও যেন তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে পাশাপাশি বসবাস করতে পারেন, সেটিই তাঁর প্রত্যাশা।

তিনি বলেন, দেশের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ, মানুষের স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সম্মিলিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। আগামী হাজার বছরও যেন সব ধর্মের মানুষ এ দেশে শান্তিতে বসবাস করতে পারেন, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাকে ভোট দিক আর না দিক দেশের জনগণ সকলে আমার/আমাদের আমি সব জেলার মানুষকে এক চোখে দেখি ও সকলের মাঝে সমান বন্টন করি যার প্রমান হলো রংপুরে ১৮শত কোটি টাকার বাজেট। রংপুরের উন্নয়নের কাজে তা ব্যবহার করা হবে। প্রয়োজনে রংপুরে আরো বাজেট দেয়া হবে।

তারেক রহমান বলেন, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করতে চায়। দেশের সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশটি সবার; তাই সম্মিলিত পরিশ্রম ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশকে আরও সুন্দর করে গড়ে তুলতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় সব ধর্মের মানুষ যেমন একসঙ্গে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন, তেমনি এখনো সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান-সবাই মিলে দেশের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্তু কুমার কুণ্ড, সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, নিপুণ রায় চৌধুরী, ছাত্রদলের পার্থ দেব, গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং রংপুর ধর্মসভার স্বপন কুমার ভট্টাচার্যসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।।

উল্লেখ্য- শারদীয় দুর্গাপূজার মহানবমী উপলক্ষ্যে রংপুরের ঐতিহাসিক ধর্মসভা (রাধা গোবিন্দ মন্দির) পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী মন্দির কর্তৃপক্ষের হাতে ১০ লাখ টাকার আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দেন। এছাড়া, মন্দিরের পেছনে হোস্টেল জাতীয় অবকাঠামো নির্মাণের সম্ভাব্যতা ও আর্থিক সহযোগিতার বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রংপুরে প্রথম সফর।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে বিমানবাহিনীর একটি বিমানে সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সামু, বিভাগীয় কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম, ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকসহ অন্যরা।