লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে বাংলাদেশি পাথর শ্রমিকদের ধাওয়া করে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে।
bগত শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ওই উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়ন সীমান্তের পশ্চিম বামনদল গ্রামের ওপারে ভারতের মেকলিগঞ্জ মহকুমার বিএসবাড়ি সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যার দিকে বুড়িমারী ইউনিয়নের পশ্চিম বামনদল সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৩৭-এর ৪ নম্বর সাব-পিলারসংলগ্ন সানিয়াজান নদীর শূন্যরেখা বরাবর অংশে কয়েকজন বাংলাদেশি শ্রমিক সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন করতে যান। এ সময় ভারতের ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের বিএসবাড়ি ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা নদীতে পাথর উত্তোলনে বাধা দেন এবং শ্রমিকদের মারধরের জন্য ধাওয়া করেন।
শ্রমিকরা পালিয়ে বাংলাদেশ অংশে চলে এলে বিএসএফ সদস্যরাও অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমানা পেরিয়ে বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় শ্রমিকদের চিৎকারে স্থানীয় ১৫ থেকে ২০ জন এলাকাবাসী লাঠিসোটা নিয়ে বিএসএফ সদস্যদের প্রতিরোধ করতে এগিয়ে যান। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা একটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে দ্রুত নদী পার হয়ে ভারতীয় সীমানায় চলে যান। এ ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ঘটনাটি জানার পরপরই রংপুর ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের বুড়িমারী স্থলবন্দর কোম্পানি সদর ক্যাম্পের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে রাতে ওই সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফ সদস্যদের সীমান্ত অতিক্রম এবং সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানায় বিজিবি। তবে বিএসএফ সীমান্ত অতিক্রম ও গ্রেনেড নিক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রংপুর ৬১ ব্যাটালিয়ন (তিস্তা-২)-এর সহকারী পরিচালক কারিমুল ইসলাম বলেন, "পাথর তোলার সময় বিএসএফ বাধা দেয়। এ সময় ইটপাটকেল ছোড়ার ঘটনা ঘটলে বিএসএফের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার একপর্যায়ে তারা আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আমরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিএসএফের কাছে প্রতিবাদপত্র পাঠিয়েছি।"