নিজস্ব প্রতিবেদক:
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্পের (RERMP/RRMEP) আওতায় নারী কর্মী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের মধ্যে মাত্র দুটি ওয়ার্ডে মাইকিং করে প্রচার, প্রচারণায় বয়সসীমা ২৫ থেকে ৪০ বছর উল্লেখ করা হলেও প্রকৃত বয়সসীমা ২৫ থেকে ৪৫ বছর হওয়ার কথা, লটারিতে নির্বাচিত ১০ জনের মধ্যে একই ওয়ার্ডের চারজনের নাম ওঠা এবং কমসংখ্যক নারী প্রার্থীর উপস্থিতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এ ছাড়া জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই নিয়োগ কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত ছিলেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত লটারি বাতিল করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় পুনরায় নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নোহালী ইউনিয়ন পরিষদে এ লটারি অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নারী কর্মী নিয়োগের বিষয়ে ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের সব এলাকায় সমানভাবে প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়নি। মাত্র দুটি ওয়ার্ডে মাইকিং করায় অন্য ওয়ার্ডের অনেক সম্ভাব্য নারী প্রার্থী নিয়োগের খবর জানতে পারেননি। ফলে লটারিতে তুলনামূলক কমসংখ্যক নারী প্রার্থীর উপস্থিতি দেখা যায়। এতে নিয়োগ কার্যক্রমে সবার অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মাইকিংয়ে নারী কর্মী নিয়োগের বয়সসীমা ২৫ থেকে ৪০ বছর উল্লেখ করা হয়েছিল। অথচ তাঁদের দাবি, নির্ধারিত বয়সসীমা ২৫ থেকে ৪৫ বছর। প্রচারে বয়সসীমা ভুলভাবে উল্লেখ করা হয়ে থাকলে ৪১ থেকে ৪৫ বছর বয়সী যোগ্য নারীরা নিয়োগের বিষয়ে জানতে না পারা এবং আবেদন বা অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও প্রকৃত শর্ত যাচাই করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ ছাড়া লটারিতে নির্বাচিত ১০ জনের মধ্যে একই ওয়ার্ডের চারজনের নাম ওঠায় নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক ইউপি সদস্য নিয়োগ কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত ছিলেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি একজন সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্যও লটারির সময় উপস্থিত ছিলেন না। স্থানীয়দের দাবি, পর্যাপ্ত প্রচার-প্রচারণা, জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা এবং নিয়োগের শর্ত সম্পর্কে যথাযথভাবে অবহিত না করে লটারি আয়োজন করায় প্রকৃত দুস্থ ও যোগ্য নারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ আলীর সঙ্গে যোগসাজশে এলজিইডির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিয়োগ কার্যক্রমে অনিয়ম করেছেন।
এ বিষয়ে নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী বলেন, “নারী কর্মী নিয়োগের পুরো কার্যক্রম এলজিইডি আয়োজন করেছে। নিয়োগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরই দায়িত্ব পালন করেছে।”
উপজেলা প্রকৌশলী জয়া স্যানাল বলেন, “বিষয়টি আমি দেখছি। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, “নারী কর্মী নিয়োগের বিষয়টি এলজিইডি দেখভাল করে। তারপরও অভিযোগের বিষয়টি আমি দেখছি।”
নিয়োগ কার্যক্রমে উপসহকারী প্রকৌশলী মামুন মিয়া, কমিউনিটি অর্গানাইজার মো. ফিরোজ মামুন এবং উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সার্ভেয়ার মো. পারভেজ মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করলে সার্ভেয়ার মো. পারভেজ মাহমুদ তাঁদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা বিতর্ক তৈরি করার জন্য এখানে এসেছেন।” তাঁর এ মন্তব্যে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি প্রকল্পে নারী কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সব ওয়ার্ডে সমান প্রচার-প্রচারণা, বয়সসীমাসহ নিয়োগের শর্ত সঠিকভাবে প্রকাশ, পর্যাপ্ত নারী প্রার্থীর অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। তাই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও মাইকিংয়ের তথ্য যাচাই, লটারির প্রক্রিয়া এবং নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে বর্তমান লটারি বাতিল করে নিয়ম মেনে পুনরায় নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।