তারাগঞ্জে কিশোর-কিশোরী ক্লাবের অনিয়মের অভিযোগ

আমাদের প্রতিদিন
2024-06-17 03:31:47

তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধিঃ

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত কিশোর-কিশোরী ক্লাব প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ৫টি ক্লাবে এখন পর্যন্ত টাঙ্গানো হয়নি কোন সাইন বোর্ড, প্রতিটি ক্লাবে ৩০জন শিক্ষার্থী থাকার কথা থাকলেও উপস্থিতি হয় তিনের একভাগ। ক্লাবের সদস্যদের খাবারের টাকা আতœসাত ও জাতীয় দিবস পালন না কওে বরাদ্দের টাকা আত্নসাতের অভিযোগ রয়েছে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এলাকার সচেতন মহলের অভিযোগ, নিয়মিতভাবে শিক্ষকের উপস্থিতি না হওয়ায় সঠিকভাবে ক্লাস না হওয়ারসহ প্রশিক্ষনার্থীদের নামে সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত খাবারের টাকা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার পকেটে যাওয়ায় ক্লাস করতে তাদের অনীহা। 

উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সুত্র জানায়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে তারাগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ৫টি কিশোর-কিশোরী ক্লাবের মধ্যে আলমপুরে চাকলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুর্শায় মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইকরচালিতে জগদীশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,হাড়িয়ারকুঠিতে এম ডাংগীরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সয়ার ইউনিয়নে বুড়ীরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নামমাত্র কিশোর-কিশোরী ক্লাব রয়েছে। ক্লাবগুলোর নেই কোন সাইনবোর্ড।  প্রত্যেকটি ক্লাবে ২০জন কিশোরী ও ১০জন কিশোর প্রশিক্ষনার্থী উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে উপস্থিতি কম।

সরেজমিনে গত শুক্রবার ও শনিবার বিকেল ৩ টা থেকে ৫টার সময় এম ডাংগীরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের সবকটি কক্ষেই তালা ঝুলানো। এসময় ওই বিদ্যালয়ের নৈশ্য প্রহরী আকবর আলী জানান, ডাংগীরহাট স্কুল এন্ড কলেজ কক্ষে কিশোর-কিশোরী ক্লাবের ক্লাস হয়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ১০ম শ্রেনীর ইসরাত জাহান, আর্নিকা আক্তার,৮ম শ্রেনীর জেসমিন আক্তার ও ৫ম শ্রেনীর সুমাইয়া আক্তারসহ ৪জন কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সদস্য তালা ঝুলানো একটি কক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। প্রশিক্ষনার্থী ইসরাত জাহান এর সাথে কথা হলে সে জানায়, ক্লাবের সংস্কৃতিক শিক্ষক ইলিয়াছ কাঞ্চন দেওয়ান স্যার (প্রশিক্ষক) ভারতে গেছেন। আমরা ম্যাডামের (জেন্ডার প্রমোটর-আফরুজ্জামান) ক্লাস নিবেন তাই অপেক্ষায় আছি। ৩ টা ২৫ মিনিটে পরেই জেন্ডার প্রমোটর আফরুজ্জামান এসে তালা খুলে ওই ৪জন কিশোর-কিশোরীকে নিয়ে ক্লাস শুরু করেন।  একই দিন বিকেল প্রায় সাড়ে ৪টায় জগদীশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে একটি কক্ষে ১২জন কিশোর-কিশোরীকে নিয়ে সংগীত প্রশিক্ষক বিষ্ণুদেব রায় ক্লাস নিচ্ছেন। মডেল সরকারি বিদ্যালয়ে ১৮জন, চাকলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৬জন ও বুড়িরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে ২৪ জন কিশোর –কিশোরীদের উপস্থিতি পাওয়া যায়। গত শনিবার চাকলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশিক্ষক সাব্বির আহম্মেদ অনুপস্থিত থাকায় সেখানে ক্লাস হয়নি। কিশোর-কিশোরীদের অনেকেরই সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাদের প্রত্যেকের নামে ৩০ টাকা খাবারের জন্য বরাদ্দ থাকলেও সদস্য প্রতি ৫টাকার একটি আলু  সিঙ্গারা ও ১২ টাকার একটি সিদ্ধ ডিম দেয়া হয়েছে। আলমপুর চাকলা কিশোর কিশোরী ক্লাবের সদস্য রিয়া মনির বাবা এজাজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, প্রায় প্রতিদিনেই ১৫ থেকে ১৭ টাকার খাবার দেয়া হয়। উপজেলা জেন্ডার প্রমোটর কাজী আফরোজ এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আলমপুর চাকলা কিশোর কিশোরী ক্লাবের আবৃতি প্রশিক্ষক সাব্বির আহাম্মেদকে ক্লাশ নেয়ার জন্য বললেও তিনি ফোন ধরেন না। খাবার তো  উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নিজেই দোকান ঠিক করে দিয়েছেন তাই যা দেয় তাই উপস্থিত সদস্যদের বিতরন করা হয়। এ প্রসঙ্গে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নুরেশ কাওছারকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগযোগ করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।