পীরগঞ্জের করতোয়া নদীর ব্রিজের পিলার ধ্বসে গেছে!

আমাদের প্রতিদিন
2024-06-03 01:57:54

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রংপুর-দিনাজপুরের মাঝে সড়কপথে যোগাযোগে করতোয়া নদীর নুনদহ ঘাটে নির্মিতব্য ব্রীজের মুল পিলার ধ্বসে গেছে। ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মানাধীন ব্রিজটির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কয়েক বছর ধরে নির্মান কাজ স্থগিত করে রেখেছে। দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা এলাকায় পিলারটি ধ্বসে পড়েছে।

জানা গেছে, রংপুর ও দিনাজপুর সীমান্তের উপজেলা মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জ, নবাবগঞ্জ এবং ঘোড়াঘাটের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করতোয়া নদী। নদীটির কারণে প্রতিবছরই বন্যায় ভেঙ্গে গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় অসংখ্য গ্রাম নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বিগত ২০১৮ সালে ঘোড়াঘাটের সিংড়া ইউনিয়নের মারুপাড়া এবং পীরগঞ্জের চতরা ইউনিয়নের গিলাবাড়ী নামকস্থানে করতোয়া নদীর নুনদহ ঘাটে ব্রীজ নির্মান কাজ শুরু করা হয়। ব্রিজটি নির্মিত হলে পীরগঞ্জের সাথে ঘোড়াঘাট, নবাবগঞ্জ ও বিরামপুর উপজেলাসহ হিলি, জয়পুরহাট এবং গোবিন্দগঞ্জ-বিরামপুর-ফুলবাড়ী-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের সাথে যোগাযোগ সহজতর হবে।

সুত্র জানায়, এলজিইডি কর্তৃপক্ষ করতোয়া নদীর নুনদহ ঘাটে ২৭ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৩’শ ১ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৯ দশমিক ৮ মিটার প্রস্থের ব্রীজ নির্মান কাজ শুরু করে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পি,পি,এল, জে,ভি বিগত ২০১৮ সালে কাজটি শুরু করে। এরপর নির্মাণ সামগ্রীর দাম বেড়ে গেলে প্রায় ৩ বছর ধরে কাজটি স্ঘগিত রয়েছে বলে জানা গেছে। প্রায় সপ্তাহ দুয়েক আগে নদীটির পানি শুকিয়ে গেলে ঘোড়াঘাট এলাকা ব্রীজের ৫ নং পিলারটির বেজমেন্ট ফেটে মাটির নীচে ধ্বসে পড়া দেখা যায়। তারপরই উপজেলা এলজিইডির কর্মকর্তাদের দৌড় শুরু হয়ে গেছে। ওই ঘটনায় বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে ৩ সদস্যদের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি ব্রীজটি পরিদর্শন করেছে। অপরদিকে ওই সময়ের উপজেলা প্রকৌশলী মজিবর রহমান ব্রীজের নির্মান কাজে অনিয়ম এবং দূর্নীতির আশ্রয় নেন বলে স্থানীয় জনতা অভিযোগ করেছিলেন। এছাড়াও ওই প্রকৌশলী রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় দায়িত্ব পালনের সময় ‘সাবেরা খাতুন এতিমখানায়’ বহুতল বিশিষ্ট ভবনের নকশা পরিবর্তন করেন এবং ওই কাজে দূর্নীতির আশ্রয় নেয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। যা এখনো বিচারাধীন। ওই প্রকৌশলী পীরগঞ্জে যোগদানের পর তার অতীতের দূর্নীতির ধারাবাহিকতার আলোকে অনেকটাই বেপরোয়া হয়ে যান বলে সে সময়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার জানান।

এব্যাপারে পীরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মশিউর রহমান বলেন, ২০১৯ সালে ব্রীজটি পিলারের কাজ হয়। ওই সময়ে করা ৫নং পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ ঘটনা দেখতে ঢাকা থেকে এলজিইডির ৩ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি তদন্তে আসে। ওই টিমের সাথে রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান আলীও ছিলেন। তিনি আরও বলেন, তদন্ত কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক পরবর্তী ব্যবসৃথা নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, নির্মাণ সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় কয়েকবছর ধরে কাজটি বন্ধ রয়েছে। ওই সময় পীরগঞ্জ উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার মজিবর রহমান এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী ওয়াজেদুল ইসলাম দায়িত্বে ছিলেন।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে নদীটির পানি শুকিয়ে গেলে ঘোড়াঘাট এলাকায় ব্রীজের  ৫ নং পিলারটির বেজমেন্ট ফেটে মাটির নীচে ধ্বসে পড়ার ঘটনাটি স্পষ্ট হয়ে উঠে। আর এতে এলাকাবাসী উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।