ভূরুঙ্গামারীতে খড়ায় পুড়ছে পাটক্ষেত, সেচ দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা কৃষকের

আমাদের প্রতিদিন
2024-07-16 05:02:11

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রামের ভরুঙ্গামারীতে দীর্ঘদিন অনাবৃষ্টির কারণে প্রচণ্ড খড়া, আর তীব্র তাপদাহ পুড়ে যাচ্ছে পাটক্ষেত। একটানা গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে উপজেলার তাপমাত্রা থাকছে ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই খরতাপে জমি শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছে। সময় মত পাট গাছের সঠিক বৃদ্ধি হচ্ছে না। ফলে চলতি মৌসুমে চাষকৃত পাট নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্র খরায় জমির মাটি ফেটে যাচ্ছে। পাটগাছ শুকিয়ে মরে যাচ্ছে । তপ্ত রোদ থেকে সোনালী আঁশ বাঁচাতে বাধ্য হয়ে জমিতে সেচ দিচ্ছেন কৃষক। কেউ পাটক্ষেতে নিড়ানি দিচ্ছেন, আবার কেউ সেচ দেওয়ার পরে জমিতে সার দিচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৯৯০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং তা অর্জিতও হয়েছে। এছাড়াও ৩ হাজার চাষিকে ১ কেজি করে প্রনোদনার পাটবীজ প্রদান করা হয়েছে।

রুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের বাগভাড গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম জানান, পাটচাষের পর থেকে দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় মাটি শুকিয়ে রস শন্য হয়ে গেছে। ফলে ডিজেল চালিত ইঞ্জিন ও বৈদ্যুতিক মোটরের সাহায্যে সেচ দিতে হচ্ছে। প্রতিবার সেচ দিতে বিঘাতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৪০০ টাকা। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে।

উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ইসলামাবাদ গ্রামের কৃষক আছির উদ্দিন বলেন, গত বছর পাটের ভালো দাম পেয়ে এবার ২ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। অনাবৃষ্টির কারণে এবার ঘন ঘন সেচ দিতে হচ্ছে। তার পরও পাটগাছ বাড়ছে না। সব মিলিয়ে পাট নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুজন কুমার ভৌমিক জানান, চলতি মৌসুমে পাট চাষের শুরু থেকেই পর্যাপ্ত  বৃষ্টিপাত না হওয়ায় প্রচণ্ড খরার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পাটের অবস্থা জানতে চাষীদের সাথে নিয়মিত খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী জমিতে সেচ দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।