কাউনিয়ায় লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন

আমাদের প্রতিদিন
2026-05-03 19:58:12
news-picture

কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি:

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় ২৪ ঘণ্টায় ১৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। উপজেলার প্রায় চার লাখ মানুষ ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ। পাশাপাশি বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। লোডশেডিংয়ে শিল্প কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ধস নেমেছে। ব্যাহত হচ্ছে সেচ কার্যক্রম। কবে নাগাদ এই লোডশেডিং কমবে, তা বিদ্যুৎ বিভাগ সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারছে না।

গ্রাহকরা বলছেন, পল্লী বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিংয়ে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। রংপুর সদরে বিদ্যুৎ ভালো থাকলেও গ্রামে ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং। ফলে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন উপজেলার পল্লী বিদ্যুতের হাজার হাজার গ্রাহক।

জানা গেছে, রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ কাউনিয়া জোনাল ও হারাগাছ জোনাল অফিসের আওতায় পল্লী বিদ্যুতের প্রায় ৯০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। উপজেলা সদরে ও হারাগাছ পৌর এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের দুইটি সাব-স্টেশন। গ্রাহকদের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য দুইটি সাব-স্টেশনে ১৩টি ফিডারে বিভক্ত করা হয়েছে। আর এসব ফিডারের মাধ্যমে সব গ্রাহকদের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এরমধ্যে হারাগাছ জোনাল অফিসের আওতায় পার্টিকেল বোর্ড মিলস্, জুট মিল সহ বিভিন্ন কলকারখানা রয়েছে।

কাউনিয়া জোনাল ও হারাগাছ জোনাল অফিস সুত্র জানায়, কাউনিয়া সাব-স্টেশনে বিদ্যুতের চাহিদা গড়ে ৯ মেগাওয়ার্ড। অথচ রংপুর বিতরন কেন্দ্র থেকে দিনে সাড়ে তিন এবং রাতে সাড়ে চার মেগাওয়ার্ড বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছে। অপরদিকে হারাগাছ সাব-স্টেশনে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৩ মেগাওয়ার্ড। অথচ রংপুর বিতরন কেন্দ্র থেকে দিনে ৫ এবং রাতে ৬ মেগাওয়ার্ড বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছে। দুই সাব-স্টেশনের চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় এক থেকে দেড় ঘন্টা পর পর এলাকা ভিত্তিক লোডশেডিং হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত সপ্তাহ দুই সপ্তাহ থেকে কাউনিয়া উপজেলা ও হারাগাছ পৌর এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিং বেড়েছে। শহরে কম লোডশেডিং হলেও গ্রামাঞ্চলে ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং হচ্ছে। ফলে দীর্ঘ সময় থাকছে না বিদ্যুৎ। ফলে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।

উপজেলার নিজপাড়া এলাকার শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রামে একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে আসার কোনো সময় থাকে না। দেড়-দুই ঘণ্টা পর এলেও কিছু সময় পর আবার চলে যায়।

হারাগাছ মধ্যপাড়া এলাকার গৃহিণী মুক্তা বেলেন, দিনে রাতে কতবার বিদ্যুৎ যায়, তার হিসাব নেই। দুই সপ্তাহ ধরে শুধু রাতেই সাত-আট ঘণ্টা ধরে লোডশেডিং হচ্ছে। গরমের কারণে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেন না। বাচ্চাটার ঠিকমতো পড়াশোনাও হচ্ছে না।

হারাগাছ ইউনিয়নের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, এমন লোডশেডিং আগে কখনো দেখিনি। শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ভোগান্তির মধ্যে আছেন।

মীরবাগ এলাকার আবাসিক গ্রাহক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আট-দশ দিন ধরে প্রচন্ড গরমের পাশাপাশি ব্যাপকভাবে লোডশেডিং হচ্ছে। দিনে পাঁচ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পল্লী বিদ্যুতের এক কর্মকর্তা বলেন, গত ১৫-১৬ দিন ধরে কাউনিয়া ও হারাগাছ জোনাল অফিসের আওতাধীন এলাকায় লোডশেডিং হচ্ছে। এতে গ্রাহকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে ফেসবুকে সরকার ও পল্লী বিদ্যুৎ সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেছেন। লোডশেডিংয়ের কারণে অনেক স্থানে গ্রাহকরা ক্ষুব্ধ হয়ে সাব-স্টেশন ঘেরাও করছে।

মাছহাড়ী গ্রামের কৃষক আব্দুল্লা গাজি বলেন, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বৃষ্টি হচ্ছে না। আমন ধানের চারা রোপন করতে জমিতে সেচ দিতে হবে। বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে এবং দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না পাওয়ায় জমিতে পুরোপুরি সেচ দিতে পারিনি। ফলে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ হারাগাছ জোনাল অফিসের এজিএম ফারুক হোসেন বলেন, চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে লোডশেডিং হচ্ছে। হারাগাছে দৈনিক ১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে গত দুই সপ্তাহ ধরে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র চার থেকে পাঁচ মেগাওয়াট। লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রাহকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে ফেসবুকে বিদ্যুৎ সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেছেন। সরবরাহ কমের বিষয়টি জিএম স্যারকে অবগত করেছি। উর্ধতন কর্তৃপক্ষ সমস্যা সমাধাননের চেষ্ঠা করছে। একই কথা জানালেন কাউনিয়া জোনাল অফিসের ডিজিএম জোবায়ের আলী বসুনিয়া।

রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ পাগলাপীর সদর অফিসের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো: খুরশিদ আলম বলেন, প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা গড়ে ৯০ মেগাওয়াট। বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ মেগাওয়াট করে। রংপুর বিতরন কেন্দ্র থেকে পল্লী বিদ্যুতের সাব স্টেশনগুলোতে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম পাওয়ায় এলাকা ভিত্তিক লোডশেডিং হচ্ছে। সরবরাহ বাড়ানো জন্য ইতিমধ্যে আমরা রংপুর বিতরন কেন্দ্র এবং জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছি।