র‌্যাবের অভিযানে জঙ্গী সংগঠনের ৪ সদস্য গ্রেফতার

আমাদের প্রতিদিন
2024-07-21 21:43:47

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রংপুর র‌্যাবের অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন আনসার আল ইসলামের উত্তরাঞ্চলের দাওয়াতী শাখার দায়িত্বশীল মুনতাসীর বিল্লাহসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরা হলো, ঠাকুরগাঁওয়ের মহসীন আলী’র ছেলে ইয়াছিন (১৭), দিনাজপুরের কেরামত আলীর ছেলে মুনতাসির বিল্লাহ (৩৬), রিয়াজুল ইসলামের ছেলে আব্দুল মালেক (৩৩) ও আব্দুস সালামের ছেলে সাব্বির হোসেন (২০)। বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৩ এর আভিযানিক দল ঠাকুরগাঁও সদর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে আলমত হিসেবে বিভিন্ন দাওয়াতী বই, ৪টি মোবাইল ও সিমকার্ড জব্দ করা হয়। শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রংপুর নগরীর আলমনগরস্থ র‌্যাব-১৩ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের মিডিয়া পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি জানান, গত ৩১ আগস্ট ডিজিএফআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন আনসার আল ইসলামের খুলনা, বাগেরহাট ও গোপালগঞ্জ অঞ্চলের দাওয়াতী শাখার দায়িত্বপ্রাপ্তসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করে। তারা জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবকে বিভিন্ন অঞ্চলের কার্যক্রম ও সদস্য নিয়োগ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে। এর ভিত্তিতে উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন অঞ্চলে নজরদারী বৃদ্ধি করে র‌্যাব এবং বৃহস্পতিবার ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করে।

র‌্যাবের মিডিয়া পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, আফগানিস্তানের তালেবানের উত্থানে উদ্ধুব্ধ হয়ে আল কায়েদা মতাদর্শের জঙ্গী সংগঠন আনসার আল ইসলাম এর কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। তারা বিভিন্ন সময় অনলাইনে তামিম আল আদনানী, হারুন ইজহার, গুনবীসহ বিভিন্ন আধ্যাত্মিক নেতার বক্তব্য দেখে উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে সংগঠনের সদস্যদের মাধ্যমে উক্ত সংগঠনে যোগদান করে। পরবর্তীতে তারা উত্তরাঞ্চলে সংগঠনের সদস্য সংগ্রহে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সরাসরি দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। তারা সমাজের ধর্মভীরু মুসলমানদের বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের উপর নির্যাতনের ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে এবং বিভিন্ন ধর্মীয় অপব্যাখ্যার মাধ্যমে ভুল বুঝিয়ে সংগঠনে যোগদান ও তাদের তথাকথিত জিহাদের প্রতি আগ্রহ করার মাধ্যমে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় উদ্বুদ্ধ করে তোলে। এ উদ্দেশ্যে সংগঠনের সদস্যদেরকে তারা বিভিন্ন উগ্রবাদী বই, মুসলমানদের উপর নির্যাতন ও উগ্রবাদী নেতাদের বক্তব্যের ভিডিও সরবরাহ করতো। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে তারা উত্তরাঞ্চলে সংগঠনের কার্যক্রম প্রসারিত করার লক্ষ্যে মসজিদ, বাসা বা বিভিন্ন স্থানে সদস্যদের নিয়ে গোপন সভা পরিচালনা করতো বলে জানা যায়। তারা বিভিন্ন অপব্যাখ্যা ও মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে দেশের বিচার ও শাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে বিতৃষ্ণা তৈরি করে ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করার জন্য সদস্যদেরকে উগ্রবাদী করে তুলতো বলে জানায় র‌্যাবের এ কর্মকর্তা।