রংপুরে ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা বাড়িঘরে ভাংচুরের ঘটনায় গ্রেফতার হয়নি আসামী

আমাদের প্রতিদিন
2024-06-06 16:08:57

কাল সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচী ঘোষণা হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রংপুর নগরীর আলমনগর স্টেশন রোড এলাকায় জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র প্রার্থী কাজী মাজহারুল ইসলাম লিটনের বাড়িতে ঢুকে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলেও এখনো কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এর ফলে আবারও হামলার আশংকায় দেখা দিয়েছে। চরম নিরাপত্বাহীনায় ওই নেতার পরিবার পরিজন অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। এঘটনায় ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এদিকে ওয়াকার্স পার্টিসহ ১৪ দলের নেতাকর্মীরা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা গতকাল সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পূর্নবাসন দাবি করেছেন। আজ মঙ্গলবার প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করে জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র প্রার্থী কাজী মাজহারুল ইসলাম লিটনের বসতবাড়িতে হামলার প্রতিবাদে কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন ওয়াকার্স পার্টির জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী।

অভিযোগ রয়েছে, রংপুর ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক লিটনসহ তার স্বজনদের ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে বাড়ির অর্ধকোটি টাকার মালামাল লুট এমনকি ঘরের টিন পর্যন্ত খুলে নিয়ে গেছে। গত রোববার বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত এই হামলা চলে।

এ ঘটনায় রংপুর মেট্রো কোতোয়ালি থানায় ওয়ার্কার্স পার্টির ওই নেতা নিজেই বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় নাজমুল করিম ডলার, রংপুর সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা শরীফ খান, মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ হোসেনসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঘটনার তিনদিন পেরিয়ে গেলেও কোন আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় চরম নিরাপত্তায় ভুগছে।

কোতয়ালী মেট্রোপলিটন থানার ওসি মাহফুজার রহমান বলেন, এ ঘটনার পর লিটনের পরিবারের নিরাপত্তার জন্য সেখানে সার্বক্ষণিক পুলিশি পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা লিটন অভিযোগ করেছেন, আসামিরা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রভাব দেখিয়ে তাকে বিভিন্ন হুমকি প্রদান করছে। এমনকি বাড়ির সামনে দলবল নিয়ে মহড়া দিয়েছে। থানায় মামলা করার পরও পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকেই গ্রেফতার করেনি। উল্টো আসামিরা প্রকাশ্যেই বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছেন, রংপুর নগরীর শাপলা স্টেশন রোডের বাসাটি তার নিজস্ব বাসা। এর সামনে দোকান আছে। দোকান ও বাসাটি নাজমুল করিম ডলার নিজের দাবি করে আসছে। ইতোপূর্বে সে আমার বাবা মফিজ উদ্দিনকে (মৃত) বিবাদী করে তাকে ভাড়াটিয়া বানিয়ে আদালতে ১৯৮৭ সালে মামলা করে। মামলাটি আদালত খারিজ করে দেন। এ ঘটনায় হাইকোর্টে রিভিউ আবেদন বিচারাধীন আছে। আসামি ডলার বেশ কিছুদিন ধরে আমাকে হুমকি দিয়ে আসছিল। এ ঘটনায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর আমি কোতোয়ালি থানায় জিডি করি।

শনিবার দুপুর ৩টার দিকে আসামি ডলারের নেতৃত্বে এক থেকে দেড়শ লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমার বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় আমি দুপুরের খাবার খাচ্ছিলাম। তখন আমার ছেলে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ঋত্র বাধা দিলে তাকেও মারধর করে খবর শুনে আমার দুলাভাই সিনিয়র আইনজীবী উৎপল আদনান ঘটনাস্থলে এলে তার ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে। এরপর আসামিরা আমাকে বাড়ির কাছে মুরাদ মেশিনারিজ নামে দোকানে জোর করে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখে।

তারা নারকীয় তাণ্ডব চালিয়ে আমার বাসার স্টিলের ক্যাবিনেট ভেঙে ১৫ ভরি সোনা, নগদ ১৮ লাখ টাকা, একটি ল্যাপটপ, দুটি স্ট্যান্ড ফ্যান, ৫৬ ইঞ্চি কালার টিভি, আইপিএসসহ অর্ধকোটি টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ছাড়াও বাসার ও ছাদের টাইলস ড্রিল মেশিন দিয়ে ভাঙচুর করে ছয়টি ঘরের টিনের চাল খুলে নিয়ে যায়। দুই ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চালায় তারা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।

অভিযুক্ত প্রধান আসামি নাজমুল করিম ডলার দাবি করেন, যে জমিতে লিটন বাস করে ওটা আমার পৈতৃক সম্পত্তি। তারা অবৈধভাবে দখল করে আছে। এ ঘটনায় বিভিন্ন আদালতে মামলা হয়েছে, সব মামলায় রায় আমার পক্ষে এসেছে।

লিটনের বাড়িতে হামলা মালামাল লুট করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, আর কতদিন মামলা চলবে, সহ্যের সীমা আছেতো। মালামাল ভাঙচুর আর লুটপাটের ঘটনা সত্য নয়। ৫৬ ইঞ্চি কালার টিভি আর ল্যাপটপ ভেঙেছে। প্রয়োজন হলে কিনে দেওয়া হবে। আর মালামাল সবই তার বাড়িতে আছে, লুটপাট হয়নি।

অন্যদিকে মামলার অন্যতম আসামি ২৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল আলম দাবি করেন, ওই দিক দিয়ে তিনি নাকি যাচ্ছিলেন, লোকজন দেখে পুরো বিষয়টি মীমাংসা করে নিতে বলেছেন।

এদিকে রংপুর জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী ও সাধারণ সম্পাদক অশোক সরকার অভিযোগ করেছেন, দুই ঘণ্টা ধরে লিটনের বাড়িতে যে তাÐব চালানো হয়েছে তার নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তীতে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।