ত্রিশ বছরেও লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া: খানাখন্দে ভরা দিনাজপুর বাস টার্মিনাল

আমাদের প্রতিদিন
2024-07-13 05:41:40

টার্মিনালে যেতেই চান না যাত্রীরা

দিনাজপুর প্রতিনিধি:

ত্রিশ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে। জরাজীর্ণ এই বাস টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন রূটে সাড়ে ৩ শতাধিক বাস চলাচল করলেও বাসে ওঠার ন্যুনতম পরিবেশ না থাকায় টার্মিনালে যেতেই চান না যাত্রীরা। ফলে বাসে ওঠার জন্য কেউ অপেক্ষা করেন দিনাজপুর শহরের কলেজ মোড়ে, কেউ ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ডে, কেউ অপেক্ষা করেন মাহরাাজা স্কুল মোড়ে আবার কেউ অপেক্ষা করেন বালুয়াডাঙ্গায়।

দিনাজপুর বাস টার্মিনাল চত্ত¡রের পুরো এলাকা বড় বড় খানাখন্দে ভরা। সামান্য বৃষ্টিতেই তাতে জমে থাকে  ময়লা কাঁদা পানি। তার উপর দিয়েই হাঁটাচলা করতে হয় যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের। টার্মিনাল এলাকায় নেই স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা। দীর্ঘদিন সংস্কার ও পরিচ্ছন্নতার অভাবে যাত্রী ছাউনিটির বেহাল দশা। নূন্যতম যাত্রীসেবা নেই, তারউপর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চরম ভোগান্তিতে মানুষ।

১৯৯৩ সালের জানুয়ারী মাসে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী দিনাজপুর বাস টার্মিনালের যাত্রী ছাউনির উদ্বোধন করেন। এটি দিনাজপুর পৌরসভার নিয়ন্ত্রনাধীন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে যাত্রী ছাউনি কিংবা টার্মিনাল চত্তরের আর কোন সংস্কার কাজ হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সর্বশেষ বাংলা ১৪৩০ সালে টার্মিনালটি ইজারা হয়েছে সাড়ে আট লাখ টাকায়। প্রতিবছর ইজারার টাকা দিয়েও অন্তত চত্ত¡রের খানাখন্দগুলো সংস্কার  কিংবা একটি স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট স্থাপন করা যেতো, কিন্তু তা হয়নি বলে মন্তব্য করছেন তারা।

বাস টার্মিনালের পুরো চত্ত¡রের বিশেষ করে তিনটি প্রবেশ পথেই বড় বড় গর্ত। একটু বৃষ্টি হলেই এসব গর্ত পানিতে ভরে যায়। গাড়ি এসে থামলেই খাল থেকে ময়লা পানি উপচে পড়ে। গাড়ি থেকে নেমে কাঁদাপানির মধ্যেই হাঁটাচলা করতে হয় যাত্রীদের। অনেকসময় যাত্রীদের দূর্ভোগের কথা চিন্তা করে দূর্ঘটনার আশঙ্কা থাকায় মহাসড়কেই যাত্রী ওঠানামা করেন চালক-হেলপার। টার্মিনালের অদূরে সরকারী কলেজ মোড় এলাকায় যেন অলিখিত বাস টার্মিনাল গড়ে উঠছে। অধিকাংশ যাত্রী টার্মিনালমুখী না হয়ে কলেজমোড় এলাকায় এসে গাড়িতে উঠছেন।

দিনাজপুর বাস টার্মিনালের বুকিং মাস্টার বাবুল হোসেন জানান, এখান থেকে ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, সেতাবগঞ্জ, পীরগঞ্জ, সৈয়দপুর, রংপুর, ফুলবাড়ী, বিরামপুর, ঘোড়াঘাট, বগুড়াসহ বিভিন্ন রুটে দৈনিক সাড়ে তিন শতাধিক গাড়ি চলাচল করে। একেকটি গাড়িতে ৩ জন করে স্টাফ হলেও ৯’শ থেকে ১ হাজার স্টাফ আছে। প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন।  

সৈয়দপুর থেকে আসা বস্তা ব্যবসায়ী ফয়সাল হোসেন জানান, সপ্তাহে দুইদিন যাতায়াত করি। এই বাস টার্মিনালে রংপুরের কাউন্টারটা পশ্চিম পাশে। ইজিবাইকে বস্তা নিয়ে আসলে তারা ভিতরে প্রবেশ করতে চায়না। অনেকসময় শহর থেকে টার্মিনাল আসবার কথা শুনলে ২০ টাকার ভাড়া ৩০ টাকা চেয়ে বসে। একটু বর্ষা হলেই জুতা হাতে নিতে নিয়ে হেঁটে আসতে হয়।

বাস চালক এনামুল আখিরা বলেন, ‘রংপুর টার্মিনালের পরিবেশ কত সুন্দর করেছে। অথচ দিনাজপুর টার্মিনালের বেহাল অবস্থা। যাত্রীরা টার্মিনালে আসেনা। কলেজ মোড়ে বসে গাড়ির অপেক্ষা করে। 

যাত্রী ছাউনির ভিতরে ৪টি কক্ষ। দুটি কক্ষ শ্রমিকদের অফিস। একটিতে তালাবদ্ধ, অপরটিতে ভাতের হোটেল। যাত্রীদের বসার কোন ব্যবস্থা নেই। চারপাশে ঘুঁটঘুঁটে অন্ধকার। রাইসুল ইসলাম নামের এক যাত্রী বলেন, ২০ মিনিট পরপর গাড়ি পাওয়া যায়। কোথাও যাবার জন্য এলেতো অন্তত ১৫-২০ মিনিটি অপেক্ষা করতে হয় টার্মিনালে। একটু যে বসবেন, তার কোন উপায় নেই। একই কথা বলছেন গাড়িচালক মনসুর রহমান। তিনি বলেন, ‘সকাল ৭টায় পঞ্চগড় থেকে ফাস্টট্রিপ আসছি সাড়ে নয়টায়। ফিরতি সিরিয়াল পাইলাম আড়াইটায়। এইযে এতটা সময় একটু বসে শুয়ে বিশ্রাম করবো তার কোন উপায় নাই। না যাত্রীরা সেবা পাচ্ছেন না গাড়ির স্টাফরা’।

বাস টার্মিনাল মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল হাকিম বলেন, এত পুরাতন একটি বাস টার্মিনালে যাত্রীরা সেবা পাচ্ছেনা। টার্মিনালটি সংস্কারের জন্য ২০১২ সাল থেকে জেলা প্রশাসক ও মেয়রের সাথে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। শুধু আশ্বাস দিচ্ছে। কোন সংস্কার কাজ হচ্ছেনা। প্রতিবছর ইজারার আয়ের টাকায়তো কিছুটা কাজ করা যায়। সেটাও হচ্ছেনা। টার্মিনাল সংস্কারসহ অতিরিক্ত জায়গা বরাদ্দ না হওয়ায় গাড়ি রাখার জায়গা নেই।

এ বিষয়ে দিনাজপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র আবু তৈয়ব দুলাল বাস টার্মিনালের দুরবস্তার কথা স্বীকার কওে বলেন, বাস টার্মিনালটির উন্নয়নে একটি প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই এটির উন্নয়নকাজ শুরু করা হবে।