বোর চাষের জমিতে সেচ বাবদ অতিরিক্ত টাকা আদায়

আমাদের প্রতিদিন
2024-06-13 01:19:03

বিরামপুরে বোরো জমিতে সেচ বন্ধ, জমি ফেটে চৌচির

বিরামপুর (দিনাজপুর)প্রতিনিধি:

বিরামপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নে বোরো চাষের জমিতে সেচ বাবদ অতিরিক্ত টাকা আদায় ও টাকা নিয়েও জমিতে পানি সেচ না দেওয়ায় কৃষকরা বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) একটি গভীর নলকুপে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন।

দরখাস্ত ও কৃষকদের অভিযোগ, বিরামপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের প্রয়াগপুর মৌজায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের একটি গভীর নলকুপ রয়েছে। সেখান থেকে পানি সেচ নিয়ে প্রায় একশ’ একর জমিতে বোরোর আবাদ হয়। গভীর নলকুপটির অপারেটর নটকুমারী গ্রামের রূপালী বেগম হলেও সেটি পরিচালনা করেন তার স্বামী মজিবর রহমান। চলতি বোরো মৌসুমে মজিবর রহমান কৃষকের জমিতে সেচ বাবদ বিঘা প্রতি (.৩৩শতাংশ) ১৮শ’ টাকা এবং প্রতি একর (১০০শতাংশ) ৫ হাজার ৪০০ টাকা হারে দাবি করেন এবং জমি রোপনের সময় সব টাকা পরিশোধ করতে বলেন। কৃষকরা কেউ অর্দ্ধেক, কেউ এক চতুর্থাংশ টাকা দিলেও মজিবর রহমান সমুদয় টাকা না পাওয়ায় সদ্য রোপিত প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে সেচ প্রদান বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে কৃষকদের বোরো খেতের জমি ফেটে চৌচির হয়ে উঠেছে। কৃষক মানিক উদ্দিনের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতির নিকট ৬৮ জন কৃষক অভিযোগ দিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষয়টি সমাধানের জন্য বিরামপুর বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামকে নির্দেশনা প্রদান করেন। তাৎক্ষনিক ভাবে সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম ঐ মাঠে গিয়ে কৃষকদের জমি পরিদর্শন করেন। এসময় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য শীতলী পাহান ও ফ্লাবিয়াস হেমরম উপস্থিত থাকলেও গভীর নলকুপ পরিচালক মজিবর রহমান রাজশাহীতে অবস্থান করছিলেন।

বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, গভীর নলকুপের তালা খুলে দেওয়ার জন্য কৃষকদের অনুরোধ করা হয়েছে এবং আগামী রোববার শালিস বৈঠকের কথা বলা হয়েছে।

কৃষক প্রতিনিধি মানিক উদ্দিনসহ অন্যান্য কৃষকরা জানান, মজিবর রহমানকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ না করা পর্যন্ত তারা গভীর নলকুপের তালা খুলবেন না।

গভীর নলকুপ পরিচালক মজিবর রহমান রাজশাহীতে অবস্থান করায় এবং তার মোবাইল ফোনবন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।