প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি

আমাদের প্রতিদিন
2024-05-29 21:24:11

খেরুয়ার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নের খেরুয়ার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মসিহুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। সোমবার (১৮ মার্চ) দুপুর ১২ টার দিকে শুরু হয় তদন্ত কার্যক্রম আর শেষ হয় বিকেল ৩ টায়। এসময় উলিপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা ও তদন্তকারী কর্মকর্তা (আহবায়ক) মো. ফরহাদ হোসেন খন্দকার ও চিলমারী উপজেলা শিক্ষা অফিসের সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা ও তদন্তকারী সদস্য মো. জাহেদুল ইসলাম ওই বিদ্যালয়ে সরেজিমন তদন্ত সম্পন্ন করেন।

এতে অভিযোগকারী অভিভাবক ওমর আলীসহ বেশকয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও প্রধান শিক্ষক মসিহুর রহমান লিখিত বক্তব্য তদন্ত কমিটিকে দেন। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ এলাকাবাসীর বক্তব্য শুনেন এ তদন্ত কমিটি। পরে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন এবং সোলার, ব্যাটারি ও পানির ট্যাংক, পানির মটরসহ আসবাবপত্র পাননি তদন্ত কমিটি। পরে তাদের অভিযোগ এবং দাখিলকৃত উল্লেখিত বিষয় বিদ্যালয়ের অনুপস্থিতি, সেচ্ছাচারিতা, যৌন হয়রানি, অর্থ আত্মসাত এবং আসবাবপত্রসহ নানা অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে প্রাথমিক সত্যতার কথা বলেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা (আহবায়ক) ফরহাদ হোসেন খন্দকার।

তিনি বলেন, আমরা উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনেছি এবং লিখিত বক্তব্য নিয়েছি। বিদ্যালয়টি যেন ভালো ভাবে চলে এবং আগের পরিবেশ ফিরে আসে সে বিষয়ে অভিযোগসহ এলাকাবাসীর মতামতের আলোকে আমরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার (ডিপিইও) কাছে দু’একদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী কতৃর্পক্ষ ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।

তদন্ত কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে অভিযোগকারী অভিভাবক ওমর আলী দৈনিক আমাদের প্রতিদিনকে বলেন, তদন্তকারী কমিটি সরেজমিন এসে আমার এবং এলাকাবাসীসহ সকলের কাছে বক্তব্য শুনেছেন এবং লিখিত স্টেটম্যান নিয়েছেন। আশা করছি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তদন্ত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন সঠিকটায় দিবেন। তিনি আরও বলেন, তদন্ত কমিটিকে ওই অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক অর্থ দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন ধামাচাপা দেওয়ার জন্য চেষ্টা করতে পারে।

বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. মসিহুর রহমান অভিযোগগুলির বিষয় মিথ্যা দাবি করে দৈনিক আমাদের প্রতিদিনকে বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন আমার পক্ষেই যাবে। কারণ আমি কোন অপকর্ম করিনি। একপ্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, অনুপস্থিতি ছিলাম তা সত্য। কিন্তু বিদ্যালয়ের কাজের স্বার্থে আমি অনুপস্থিত হতে হয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিইও) মো. নবেজ উদ্দিন দৈনিক আমাদের প্রতিদিনকে বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে সে অনুযায়ী পরবতীর্ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।

প্রসঙ্গত, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে অপসারণের দাবিতে অভিভাবক ও এলাকাবাসী ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ ফেব্রুয়ারি মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। এ বিষয়ে দৈনিক আমাদের প্রতিদিনে সংবাদ প্রকাশ হয়। এছাড়াও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, শিক্ষক—অভিভাকদের সাথে অসদাচরণ, যৌন হয়রানিসহ অর্থ আত্মসাৎ'র অভিযোগে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তর বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সরেজমিন তদন্তের জন্য ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন।