চিলমারীতে সফল হয়নি ধান ক্রয় অভিযান উদ্বোধনেই সীমাবদ্ধ ধান সংগ্রহ কার্যক্রম

আমাদের প্রতিদিন
2024-05-24 18:18:13

চিলমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা খাদ্যগুদাম ধান সংগ্রহ অভিযান উে্দ্বাধনের পর এক কেজি আমন ধানও সংগ্রহ করতে পারেনি। প্রায় তিন মাসে চাল সংগ্রহ লক্ষমাত্রা অর্জিত হলেও ব্যার্থ হয়েছে ধান ক্রয় অভিযান। সরকারীভাবে দেয়া মূল্যের তুলনায় বাজারমূল্য বেশি হওয়ায় কৃষকরা গুদামে ধান দেয়নি। ফলে অভিযান ব্যর্থ হয়েছে বলে খাদ্য বিভাগের দাবী।

জানাগেছে,চলতি আমন মৌসুমে চিলমারী উপজেলা খাদ্যগুদামে ২৯১মে.টন ধান ও ৩৬৬.৯৯০মে.টন চাল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছিল। যা প্রতি কেজি ধান ৩০টাকা ও চাল ৪৪টাকা দরে ক্রয় করার জন্য ২৩নভেম্বর ২০২৩ থেকে ২৯ফেব্রুয়ারী ২০২৪তারিখ পর্যন্ত সময় বেধে দেয়া হয়। সরকারীভাবে বেধে দেয়া সময়ে চুক্তিবদ্ধ ৪০জন মিলারের নিকট থেকে ৩৬৬.৯৯০ মে.টন চাল ছাড়াও অতিরিক্ত ২৮৬.১৪০ মে.টন মিলে মোট ৬৫৩.১৩০ মে.টন চাল ক্রয় করা হলেও উদ্বোধনের সময় নেয়া ৩মে.টন ধান ছাড়া এক ছটাক ধানও সংগ্রহ করতে পারেনি স্থানীয় খাদ্যগুদাম।

সংশ্লিষ্টরা জানান,সরকারীভাবে দেয়া মুল্যের চেয়ে খোলা বাজারে ধানের মূল্য বেশি এবং সরকারি খাদ্যগুদামে ধান দিতে অনেক ঝামেলা হওয়ায় কৃষকরা গুদামে ধান দিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এ কারনে সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,ধান—সংগ্রহ অভিযানের সময় মিলারদের চাল দিতে সামান্য লোকসান হলেও ভবিষ্যতের কারনে তারা খাদ্য গুদামে চাল দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি ধান ৩০—৩৩ টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়াও ভালো শুকনা ধান ছাড়া গুদামে ধান দেয়া যায় না। এই অবস্থায় গুদামে ধান সরবরাহ করলে কৃষকদের বড় রকমের লোকসান গুনতে হয় বলে কৃষকরা গুদামে ধান দিতে অনাগ্রহী।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ আলাউদ্দিন বসুনিয়া জানান,চলতি আমন মৌসুমে ৪০জন মিলারের নিকট হতে লক্ষমাত্রার ৩৬৬.৯৯০ মে.টন চাল এবং অতিরিক্ত ২৮৬.১৪০ মে.টন মিলে মোট ৬৫৩.১৩০ মে.টন চাল ক্রয় করা হয়েছে। ধান ক্রয়ের বিষয়ে তিনি বলেন,লক্ষমাত্রা ২৯১মে.টন ধানের মধ্যে ৩টন ধান নিয়ে অভিযান উদ্বোধন করা হয়। সরকারীভাবে বেধে দেয়া মূল্যের চেয়ে ধানের বাজার দর বেশী হওয়ায় আর কোন ধান ক্রয় করা সম্ভব হয়নি।