ফুলবাড়ীতে ঈদ ও ১লা বৈশাখের আনন্দে ধরলার পাড়ে দর্শনার্থীদের উপচে-পড়া ভীর

আমাদের প্রতিদিন
2024-06-20 15:20:24

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে কোন প্রকার বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় ঈদের আনন্দ ও উৎসব উপভোগ করতে বেঁচে নিয়েছে দেশের উত্তরাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম সড়ক সেতু ‘শেখ হাসিনা ধরলা সেতুটি।

বৃহস্পতিবার ঈদের প্রথম দিন দুপুর থেকে শুরু করে ১লা বৈশাখ সন্ধা পর্যন্ত শেখ হাসিনা ধরলা সেতু পাড়ে উপচে—পড়া ভিড়ে মূখরিত হয়ে পড়েছে পুরো সেতু এলাকা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শুধু ফুলবাড়ী উপজেলা নয় পার্শবর্তী উপজেলা নাগেশ্বরী ও লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে শেখ হাসিনা ধরলা সেতুর দুই পাড়ে উৎসব মূখোর পরিবেশে হাজার হাজার দর্শনার্থীদের ঢলে মুখরিত। অনেকেই আবার শেখ হাসিনা ধরলা সেতুটি এক নজর দেখতে বিভিন্ন জায়গা থেকেও এসেছেন। উপজেলা সদর থেকে শেখ হাসিনা ধরলা সেতুর দুরত্ব মাত্র আড়াই কিলোমিটার। সেতুটি নির্মানের পর থেকে প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও ঈদের প্রথম দিন থেকে ১লা বৈশাখ প্রিয়জনদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করতে ছুটে আসেন শেখ হাসিনা ধরলা সেতুর পাড়ে। ধরলা পাড়েই খানিকটা বিনোদন ও ভাল লাগার অনুভুতি পেতে হাজারো মানুষের ঢল নামে সেখানে।

সেতুর দুই পাড় দিয়ে আনন্দ উপভোগ করতে নারী—পুরুষ, কিশোর—কিশোরীরা পরিবার পরিজন নিয়ে পায়ে হেঁটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আবার কেউ কেউ ভ্যান, রিকসা, অটো, মোটর সাইকেল, বাইসাইকেল, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে সেতুর মাঝ খানে দাড়িয়ে প্রেমিক—প্রেমিকা, বন্ধু—বান্ধব ও পরিবার পরিজনদের সঙ্গে ছবি ও সেলফি তুলতে ব্যাস্ত সময় পাড় করছেন।

আবার অনেকেই ধরলায় ডিঙ্গি নৌকায় চড়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করছেন। কেউ কেউ আবার ধরলার চর গুলোতেই ঘুরে ঘুরে দেখছেন। সেতুর দুই পাড়ে ১০ থেকে ১৫ টি ফুচকা, চানাচুর, আইক্রিমের দোকানের পাশাপাশি চুরি—ফিতা ও বেলুনসহ বিভিন্ন রকমারীর দোকান বসেছে। সব গুলো দোকানেই ক্রেতাদের উপচেপড়া ভির দেখা গেছে। শেখ হাসিান ধরলা সেতুর পাড়ে পর্যটন কেন্দে্রর দাবী জানিায়েছে স্থানীয়রাসহ দুর—দুড়ান্ত থেকে আসা দর্শনাথীরা।

উপজলার কাশিপুর থেকে আসা দর্শনার্থী মৌসুমি আক্তার ও লালমনিরহাট সদর উপজেলা থেকে আসা দর্শনার্থী প্রিয়া আক্তার ও আশামনিসহ অনেকেই জানান, আনন্দ উপভোগ করতেই পরিবারের সাথে শেখ হাসিনা ধরলা সেতুটি দেখতে এসেছি। অনেক ভাল ভাল ছবি ও সেলফি তুলে ফেসবুকে পোষ্ট করছি। সেই সাথে ধরলায় ডিঙ্গি নৌকায় ঘুরেছি। সব মিলিয়ে আমরা এবারের ঈদ—আনন্দটা খুবই ভাল হয়েছে।

বড়বাড়ী এলাকা থেকে আসা ফুচকা ও চটপটি বিক্রেতা জাহাঙ্গীর আলাম ও বাবলু মিয়া জানান,  ঈদের নামাজ পড়েই শেখ হাসিনা ধরলা সেতু পাড়ে এসেছি। আল্লাহের রহমতে বেচা বিক্রি ভালই হয়েছে।

ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ প্রাণকৃষ্ণ দেবনাথ জানান, দুর—দুড়ান্ত থেকে আসা হাজারও দর্শনার্থী ফুলবাড়ী উপজেলার শেখ হাসিনা ধরলা সেতু পাড়ে আনন্দ ভাগাভাগি করতে ব্যাপক জনসমাগম ঘটেছে। দর্শনার্থীরা যেন আপন মনে সেতু পাড়ে তাদের প্রিয়জনদের সাথে ঘুরে পাড়ে সে লক্ষ্যে পুলিশের টহল জোড়দার করা হয়েছে।