গঙ্গাচড়ায় প্রাণি সম্পদ সেবা সপ্তাহ প্রদর্শনী বরাদ্দের টাকা লুটপাটের অভিযোগ

আমাদের প্রতিদিন
2024-06-24 12:46:09

নির্মল রায়,গঙ্গাচড়া (রংপুর):

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত প্রদর্শনী মেলায় সমন্বয়হীনতা, আর্থিক দুর্নীতি, লুটপাট ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা সাখাওয়াৎ হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রদর্শনী মেলা উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আলোচনা সভার সকল অতিথি ও খামারীরা।

জানা যায়, ১৮ এপ্রিল প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সেবা সপ্তাহ ও প্রদর্শনী মেলা আয়োজন উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে এ প্রদর্শনীর জন্য ২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও গুটিকয়েক খামারিকে নিয়ে উপজেলা পরিষদ মাঠ প্রাঙ্গণে নামমাত্র এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। প্রদর্শনী উপলক্ষে ছিল না কোন প্রচার প্রচারণা। ফলে মেলায় কাঙ্খিত দর্শকের দেখা মেলেনি। অনুষ্ঠানটির ব্যাপক প্রচারের জন্য ৫ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও অনেকেই বলেন প্রচারের জন্য কোন মাইকিংই শোনা যায়নি। প্রদর্শনী স্থলে ৫০টি স্টল বাবদ বরাদ্দ ছিল ৬৯ হাজার ৫০০ টাকা কিন্তু প্রদর্শনীতে স্বল্প পরিসরে ৪৪ জন খামারিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

এছাড়া ৫০ টি স্টলের পশুর জন্য ২২০ টাকা হারে খাবারের পাত্র বাবদ বরাদ্দ ছিল ১২ হাজার টাকা। কিন্তু খাবারপাত্র দেখা যায়  অল্পসংখ্যক । পশুর খাবার বাবদ বরাদ্দ ছিল ১০ হাজার টাকা।  দেখা যায় মেলায় আসা প্রাণিকে  শুধু কিছু ঘাস খেতে দেয়া হয়েছিল।  সব বিষয়ই ছিল প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার দায়সারা হিসেব। দুপুরের খাবার বাবদ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও স্থানীয় একটি হোটেল থেকে ৩শ প্যাকেট বিরিয়ানি (প্যাকেট প্রতি ১২০ টাকা ব্যায়) ও আমন্ত্রিত ৩০ জন অতিথির জন্য  আলাদাভাবে সবজি, মাছ, মাংসের ব্যবস্থা করা হয়েছে সেখানেও গাফিলতি পাওয়া যায়। খাবারের সাথে পানির বোতল না দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগের সাথে ছিল নিম্ন মানের খাবার। এমনকি অনুষ্ঠানস্থলে আসা অনেকেই খাবার না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন। এছাড়া

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন খামারিকে পুরস্কার হিসেবে স্বাক্ষর ও টাকা না  লিখেই ফাঁকা চেক প্রদান করা হয়।

বিষয়টি খামারিরা উপস্থিত অতিথিবৃন্দদের জানালে পরে তাদেরকে স্বাক্ষর ও টাকা উল্লেখ করে চেক প্রদান করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।

উপজেলার একাধিক কর্মকর্তা বলেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সাখাওয়াৎ হোসেনের যোগদানের পর থেকেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। অফিসে বিলম্বে আসা এমনকি অফিস ফাঁকি দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

প্রদর্শনীতে অংশ নেয়া মহিষখামারী মহির আলী (৫৮) বলেন, সেই সকাল বেলায় মুঁই মহিষ নিয়া আচ্চুওঁ, মহিষোক খালি একনা শুকান খাবার দেচে। অফিসের কোন লোকেরও দেখা নাই। না খেয়ে মহিষ শুকি যাওচে।

গরুখামারী আমজাদ হোসেন (৫০) বলেন, গরুর খাবার নাই জানলে মুইঁ মেলাত গরু নিয়ে আসনু না হয়। প্রদর্শনীর বরাদ্দের টাকা কেবল লুটপাট আর আত্মসাৎ হয় ।

এসব অভিযোগের বিষয়ে  উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা সাখাওয়াৎ হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন।

অনুষ্ঠানে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রাবিয়া বেগম তার বক্তব্যেও প্রদর্শনী আয়োজন ও ব্যবস্থাপনার বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, গত বছরেই এ প্রদর্শনীর আয়োজন বিষয়ে অনেক কথা বলা হয়েছে। এরপরও এবারও আয়োজনে একই অবস্থা, যা কেবল দায়সাড়া গোছের। অথচ প্রদর্শনী আয়োজনের জন্য সরকারিভাবে যথেষ্ট বরাদ্দ রয়েছে। সভায় উপস্থিত অতিথি এমপি প্রতিনিধি আব্দুল মতিন অভি, গজঘণ্টা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওবায়দুল্লাহ মেলার দায়সারা  আয়োজনে ক্ষোভ প্রকাশ করে একই মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতি গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার  নাহিদ তামান্না বলেন সকল সদস্যদের নিয়ে প্রস্তুতি সভা করে প্রানীসম্পদ  মেলাটির আয়োজন করলে মেলাটি সুন্দর হত।