ফুলবাড়ীতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের দেড় কোটি টাকা আত্নসাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য

আমাদের প্রতিদিন
2024-06-19 20:00:32

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:  

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের দারিদ্র বিমোচন ও ঋণ কর্মসূচী শাখার পরিবারভিত্তিক ঋণ কার্যক্রমের প্রায় দেড় কোটি টাকার অনিয়মের মাধ্যমে আত্নসাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। এনিয়ে দফায় দফায় তদন্ত হলেও ওই সরকারী প্রতিষ্ঠানটির এতো টাকা অনিয়মের সঙে কে জড়িত আজও বের করতে পারেনি কতৃর্পক্ষ। ফলে আবারও ৫ সদস্য বিশিষ্ট অভ্যন্তরীণ অডিট টিম গঠন করে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য বলা হয়েছে।

প্রাপ্ত সুত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের দারিদ্র বিমোচন ও ঋণ কর্মসূচী শাখার পরিবারভিত্তিক ঋণ কার্যক্রমের আওতায় ৪৮০ কেন্দ্র তৈরী করে কয়েক কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়। এ মোতাবেক প্রতিষ্ঠানটি বেশ সুনামের সহিত তার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার প্রাক্কালে এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকতার্ কর্মচারীর যোগসাজসে ১৯৯৯ সাল হতে ২০০৮ সালের মধ্যে সরকারী প্রতিষ্ঠানটির ঋণ কর্মসূচী মূখ থুবরে পরা শুরু হতে থাকে। এরই মধ্যে অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীরা নিজের আখের গুছিয়ে নেওয়ার জন্য কৌশলে বেশীর ভাগ কেন্দ্রতে ভুয়া তালিকা প্রনয়ন করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া শুরু করে। এব্যপারে বারবার উর্দ্ধতন কতৃর্পক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও ওই কর্মকতার্ কর্মচারীদের উপরের ঘাটি শক্ত থাকায় বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়। পরবর্তিতে এসে আবারও প্রতিষ্ঠানটির প্রায় দেড় কোটি টাকা অনিয়মের মাধ্যমে আত্নসাতের বিষয়টি অভিযোগের মাধ্যমে নজরে আনে সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষ। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে ৩১ মার্চ/২৪ তারিখে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের দারিদ্র বিমোচন ও ঋণ কর্মসূচীর পরিচালক এ কে এম মফিজুল ইসলাম সাক্ষরিত একটি অফিস আদেশে নতুন করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট অভ্যন্তরীণ অডিট টিম গঠন করা হয়েছে।

অফিস আদেশ কপিতে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক ঋণ কার্যক্রমের দৈনিক আদায় রেজিষ্টার, ঋণের মাষ্টার রেজিষ্টারের পরিবর্তে ডুপ্লিকেট রেজিষ্টার তৈরি করণ,ঋণীদের ব্যক্তিগত ঋণের আবেদন নথি না থাকা এবং ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। যাহা প্রধান কার্যালয়ের প্রতিবেদনে দেখা যায়, উপজেলাটির পরিবারভিত্তিক কর্মসূচিতে ১ কোটি ২৯ লাখ ৬৩ হাজার টাকা খেলাপী রয়েছে।

 

এদিকে সরেজমিনে ৪৬৭ নং কেন্দ্র গিয়ে জানা গেছে, ওই কেন্দ্রটিতে  প্রথম দফায় ৪৫ জন সদস্য প্রতিজনে ৭ হাজার টাকা করে ঋণ অনুমোদিত  হলেও ৩০ জনকে ঋণের চেক প্রদান করা হয় ১১ জুলাই/০৫। এই ভাবে একই স্বারক ব্যবহার করে অপর একটি ৪৬৭ নং নামে কেন্দ্রে ৪৫ জন সদস্যের নামে প্রতিজনে আবারও ৭ হাজার টাকা করে ঋণ বিতরণ দেখানো হয়। পরবর্তিতে এসে দ্বিতীয দফায় একই ভাবে একই স্বারক ব্যবহার করে গত ২৮ মে/০৬ তারিখে একই তারিখে দুইটি কেন্দ্রের একটিতে ৪৫ জন এবং অপরটিতে ৩২ জন সদস্যের মাঝে প্রতিজনে আবারও ৮ হাজার টাকা করে চেক বিতরণ দেখানো হয়। যাহা ওই কেন্দ্রের কেন্দ্র প্রধানসহ অন্যান্য সদস্যরা কিছুই জানেন না। চার দফায় এই কেন্দ্রটি থেকে ওই অসাধু চক্রটি মাধ্যমে  ১২ লাখ ৪৬ হাজার টাকা উত্তোলন করা হলেও ৩০ সদস্য শুধুমাত্র এক দফায় প্রতিজনে ৭ হাজার টাকা করে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা ঋণ প্রাপ্ত হন। প্রাপ্ত সুত্রটি আরও জানিয়েছে প্রায় কেন্দ্র গুলোতে নামে বেনামে ঋণ দেখিয়ে চেকের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। যাহার পরিমান দাড়িয়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকা।

ফুলবাড়ী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ললিত মোহন রায় জানান, আমিও শুনেছি ডুপ্লিকেট রেজিষ্টার তৈরী করা হয়েছে। তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। তদন্ত হলে সব কিছু বেড় হয়ে আসবে।

সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস ছোবহান জানান, ইতিপূর্বে আমাকে অফিসিয়ালি ভাবে ৮ সদস্যের তদন্ত টিমের মধ্যে রাখা হয়েছিল। কমিটির মাধ্যমে তদন্ত প্রতিবেদন প্রদান করি। কিন্তু সত্যতা প্রমান করতে ব্যর্থ হই। বর্তমানে প্রধান কার্যালয় থেকে তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। হয়তো এখন সত্যতা প্রমানিত হবে।

৪৬৭ নং কেন্দ্রের কেন্দ্র প্রধান মোঃ মজিবর রহমান জানান, আমিসহ আমার কেন্দ্রের সদস্যরা গ্রুপ এ্যানিমেটর সেহাব স্যারের মাধ্যমে ৩০ জন সদস্যের ৭ হাজার টাকা করে চেক উত্তোলন করি।পরবর্তিতে আমরা আর কোন ঋণ গ্রহন করি নাই। সদস্যরা তাদের ঋণের টাকা পরিশোধ করেছেন।

তৎকালীন গ্রুপ এ্যানিমেটর মো. সেহাব উদ্দিনের সঙে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এবিষয়ে তৎকালীন গ্রুপ এ্যানিমেটর ও বর্তমানে রাজারহাট উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ ইবরাহীম খলিল আনোয়ারী আমাদের প্রতিদিনকে  জানান, আমি সেসময় চন্দ্রখানা শাখায় কর্মরত ছিলাম। এবিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রধান কার্যালয় থেকে তদন্ত টিম গঠন হয়েছে।