লোডশেডিং আর মশার উপদ্রবেঅতিষ্ঠ রংপুর নগরবাসী

আমাদের প্রতিদিন
2024-06-24 00:12:38

নিজস্ব প্রতিবেদক:

অসহ্য গরম আর লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি রংপুর নগরীর বাসিন্দাদের এখন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে মশার যন্ত্রণা। অথচ মশক নিধনে এখনও কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে পারেনি সিটি করপোরেশন। অতিষ্ঠ নগরবাসী বলছেন, সিটি করপোরেশনের উদাসীনতা আর নগরীর ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া শ্যামা সুন্দরী খাল সংস্কার না করার কারণেই ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন নগরবাসী।

জানা যায়, মশার কামরে ম্যালেরিয়ায় মায়ের মৃত্যুতে ১৮৯০ সালে খনন করা হয় শ্যামা সুন্দরী খাল। তবে সেই খালটি এখন এডিসসহ নানা ধরনের মশার প্রজননের উর্বর ভূমি। রংপুর নগরীর ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ শ্যামা সুন্দরী খাল সংস্কারের অভাবে এখন ময়লা আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছে। এটি এখন মশা প্রজননের উর্বর ক্ষেত্র। অথচ খালটি সংস্কারের এক সময় কোটি কোটি টাকা খরচ করা হলেও তা নগরবাসীর কোনো কাজে আসেনি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুই মাসের শিশুসহ তিন মেয়েকে নিয়ে মশার যন্ত্রণা থেকে রেহাই পেতে এভাবেই দিনের বেলা কয়েল ও মশারি খাটিয়ে রেখেছেন রংপুর নগরীর ২০ নাম্বার ওয়ার্ডের বাসিন্দা লিপি বানু।

তিনি আক্ষেপ নিয়ে আমাদের প্রতিদিনকে বলেন, দিনে রাতে ২৪ ঘণ্টা মশারি খাটানো লাগে, আবার সারাদিন কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হয়। বাচ্চারা বাইরে খেলতে যেতে পারে না। এজন্য গরমের মধ্যে সারাদিন মশারির ভিতর রাখতে হচ্ছে। মশা যেখানে কামড় দিচ্ছে সেখানে ঘাঁ হয়ে যাচ্ছে। একই অবস্থা নগরীতে বসবাসকারী অন্য বাসিন্দাদেরও।

তবে সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার দাবি, শ্যামা সুন্দরীর ধ্বংসের দায় নগরবাসীর। তিনি বলেন, আমাদের কাছে মশক নিধনে কিছু ওষুধ আসছে। হয়তোবা আমরা আগামী সপ্তাহ থেকে প্রতিটা ওয়ার্ড ভিত্তিক স্প্রে এবং ফ্লাইং মশা মারার জন্য কার্যক্রম শুরু হয়ে যাবে। এখানে সমস্যা হয়েছে আমাদের শ্যামা—সুন্দরী ক্যানেল। শ্যামা—সুন্দরী ক্যানেলটা হচ্ছে ময়লা—আর্বজনার থেকে মশা ও মাছির অভয়ারণ্য। আমাদের সাধারণ মানুষের নাগরিক কিছু দায়িত্ব আছে। সেই দায়িত্বটা আমরা ঠিকভাবে পালন করছি না। নগরীর মানুষের বাড়ির সমস্ত ড্রেন লাইন শ্যামা সুন্দরীর দিকে মুখ করা। ক্যানেল পাশ দিয়ে হাঁটলে এর গন্ধ নাকে আসবেই। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি।

উল্লেখ্য, শ্যামা সুন্দরী সংস্কারে ২০১২ সালে ২৪ কোটি ৮০ লাখ। এর আগে ২০০৮—০৯ এ আরও ১২ কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।