৬ শ্রাবণ, ১৪৩১ - ২২ জুলাই, ২০২৪ - 22 July, 2024
amader protidin

পীরগাছায় ৮ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা সমিতির পরিচালক ও ম্যানেজার:দিশেহারা শতাধিক গ্রাহক

আমাদের প্রতিদিন
8 months ago
139


পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি:

রংপুরের পীরগাছায় শতাধিক গ্রাহকের প্রায় ৮ কোটি টাকা নিয়ে আত্মগোপন করেছেন সাকসেস বিজনেস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ নামক একটি সমিতির পরিচালক ও ম্যানেজার। উপজেলার চৌধুরাণী বাজার ও পাশ্ববর্তী সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় শাখা খুলে অধিক মনুফার লোভ দেখিয়ে তারা এ টাকা হাতিয়ে নেন। এ বিষয়ে বেশ কিছু ভূক্তভোগী পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার কৈকুড়ী ইউনিয়নের রামচন্দ্রপাড়া গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে জনি মিয়া পীরগাছা উপজেলা সমবায় অধিদপ্তর থেকে ২০১৮ সালে রেজিষ্ট্রেশন নিয়ে ‘সাকসেস বিজনেস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ’ নামে একটি সমিতি খোলেন। যার রেজিস্ট্রেশন নং ৩৩/১৮। পরে জনি মিয়া পীরগাছা উপজেলার চৌধুরালী বাজার ও পাশ্ববর্তী সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ওই সমিতির শাখা খুলে ম্যানেজারসহ কর্মী নিয়োগ দেন। এসব কর্মী গ্রামে গ্রামে গিয়ে এক লাখ টাকা প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা মুনাফা প্রদানের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন এলাকার মানুষজনের নিকট থেকে আমানত সংগ্রহ করেন। গ্রামের সহজ সরল সাধারন মানুষ তার ফাঁদে পা দিয়ে ওই সমিতিতে টাকা জমা রাখতে শুরু করেন। এভাবে অভিযুক্ত জনি মিয়া সুন্দরগঞ্জ ও পীরগাছা উপজেলার কমপক্ষে শতাধিক গ্রাহকের নিকট হতে প্রায় ৮ কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করেন। এসময় তারা মানুষের আস্থা অর্জনের লক্ষে প্র্রথম কয়েক মাস মুনাফা প্রদান করলেও গত ৬ মাস থেকে মুনাফা দেয়া বন্ধ করে দেন। উপায় না পেয়ে কিছু গ্রাহক তাদের আসল টাকা ফেরতের জন্য চাঁপ প্রয়োগ করলে কিছু দিন নানা তালবাহানা করে গা ঢাঁকা দেন সমিতির পরিচালক জমি মিয়া ও ম্যানেজার রাসেল মাহমুদ জীবন।

উপজেলার মকসুদ খাঁ গ্রামের ভূক্তভোগী মর্জিনা বেগম বলেন, আমি ঢাকা শহরে মানুষের বাসায় বুয়ার কাজ করি। অনেক কষ্ট করে কিছু টাকা জমিয়েছিলাম। সমিতির ম্যানেজার রাসেল মাহমুদ জীবন লোভ দেখালে তার মাধ্যমে আমি ২ লাখ টাকা রেখেছিলাম। প্রথম ৩ মাস আমাকে লাভ প্রদান করা হলেও এখন লাভ বা আসল কোনটাই দিচ্ছেনা। একই গ্রামের আরেক ভক্তভোগী আজিরন বেগম বলেন, আমি রাস্তার মাটি কাটার কাজ করি। অনেক কষ্টে টাকা জমিয়ে ওই সমিতিতে ৫০ হাজার টাকা রেখেছিলাম। এখন তারা আমাদেরকে লাভ বা আসল কোনটাই দিচ্ছেনা। আমি সমিতির অফিসে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে শুনি ম্যানেজার জীবন সব টাকা তুলে নিয়ে গেছেন।  আরেক ভক্তভোগী ষাটোর্দ্ধ বৃদ্ধা জরিনা বেগম বলেন, আমার ভিক্ষা করে জমানো ১ লাখ টাকা সমিতির ম্যানেজার জীবন নিয়েছিলো। প্রতি মাসে লাভ দিবে। এখন লাভ-আসল কিছু দিচ্ছে না। সবাই পলাতক। আমি এখন কি দিয়ে চলব।

সরেজমিনে গেলে স্থানীয় হারুনুর রশিদ ও জাহিদুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, লাখে ২ হাজার টাকা লাভের প্রলোভন দেখিয়ে তারা সাধারন মানুষের সাথে প্রতারণা করছে। টাকা নেওয়ার সময় তারা একটি ফরম পূরণ করে পাশ বই দিতো। এখন তারা লাপাত্তা। আমরা চাই গরীব অসহায় মানুষদের টাকা যেন  প্রশাসন উদ্ধার করে দেয়।

জানতে চাইলে স্থানীয় কৈকুড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুর আলম মিয়া বলেন, সমিতির নামে অনেকই সাধারন মানুষকে ধোকা দিচ্ছে। এরাও লাখ টাকায় ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা কমিশনে লোক নিয়োগ দিয়ে এ ধরনের প্রতারণা করেছে। ওই সমিতির পরিচালক জনি মিয়া এখন পরিবারসহ পলাতক। 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সমিতিটির পরিচালক জনি মিয়া ও ম্যানেজার রাসেল মাহমুদ জীবনের বাড়িতে গেলে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে পীরগাছা উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোছাঃ ছামছুন্নাহার বেগম বলেন, আমি দুই বছর হয় এখানে এসেছি। আমি ২০২১ সালে ওই সমিতি আমি অডিট করেছি। ২০২২ সালে আমার সহকারী করেছে। ২০২৩ সালের জেলা থেকে অডিট হওয়ার কথা। তার আগেই আমরা এসব অনিয়মের কথা জানতে পেরে তাদের নোর্টিশ দিতে গেলে  কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তারা কোথায় আছে কেউ বলতে পারেনা। এখন আমরা অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হক সুমন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ওই সমিতির নামে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি সমবায় কর্মকর্তা ও থানার ওসিকে জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য যা যা করণীয় তা আমরা করবো।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়