৬ শ্রাবণ, ১৪৩১ - ২১ জুলাই, ২০২৪ - 21 July, 2024
amader protidin

অনলাইন জুয়ায়  সর্বশান্ত ও অশান্তি বাড়ছে

আমাদের প্রতিদিন
5 months ago
154


বায়েজিদ, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা):  

গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলায় মোবাইল অ‍্যাপসের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া খেলা ব‍্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব অনলাইন জুয়ার লোভে পড়ে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষসহ বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তরুণেরা বেশি আসক্ত হচ্ছেন। জুয়ার নেশায় বুদ হয়ে সর্বস্ব হারাতে বসেছেন তাদের অনেকেই। এ কারণে বাড়ছে পারিবারিক অশান্তি ও দাম্পত্য কলহ এবং বিবাহ বিচ্ছেদ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পলাশবাড়ী উপজেলা জুড়েই এই জুয়া বিস্তার লাভ করছে। সহজে প্রচুর অর্থ উপার্জনের লোভে পড়ে স্কুল-কলেজের ছাত্রসহ বিভিন্ন বয়সের অসংখ্য মানুষ এই জুয়ায় জড়িয়ে পড়ছেন। তরুণদের অনেকেই কৌতূহলবশত এই খেলা শুরুর পরেই নেশায় পড়ে যাচ্ছেন। প্রথমে লাভবান হয়ে পরবর্তী সময় খোয়াচ্ছেন হাজার হাজার টাকা।

অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,টার্চ ফোনে নির্ধারিত কয়েকটি অ্যাপস ডাউনলোড করে সেখানে জুয়া খেলা চলে। বিভিন্ন নামের প্রায় ৮ থেকে ১০টির মতো অ্যাপসে সবচেয়ে বেশি জুয়া খেলা হয়। এসব অ্যাপসে ১০/২০/৩০ টাকা থেকে শুরু করে যেকোনো অঙ্কের টাকা দিয়ে শুরু করা যায়।

অনলাইন জুয়ায় আসক্তরা বলছেন,এসব অ‍্যাপস পরিচালনা করেছেন কয়েকটি দেশ। পলাশবাড়ী উপজেলার প্রায় প্রতিটি বাজারেই রয়েছে তাদের এজেন্ট। তারা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জুয়ায় অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ বা প্রদান করে থাকে। এজেন্টরা বিদেশি অ্যাপস পরিচালনাকারীদের কাছ থেকে হাজারে কমপক্ষে ৪০ টাকা কমিশন পায়। এজেন্টদের মাধ্যমেই বিদেশে টাকা পাচার হয়।

অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ব্যক্তিরা বলছেন, এসব খেলা স্বাভাবিক গেমের মতো হওয়ায় প্রকাশ্যে খেলা হলেও আশপাশের মানুষ তা বুঝতে পারেন না। জুয়ায় অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের বেশির ভাগেরই রয়েছে  টার্চ ফোন। যাদের নেই, তারা ভাড়া নিয়ে চালান। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রথম অংশগ্রহণকারীদের জুয়ায় জিতিয়ে লোভে ফেলা হয়। এরপর নেশা ধরে গেলে একের পর এক টাকা খোয়ানোর ঘটনা ঘটতে থাকে। তখন আর বের হওয়ার পথ থাকে না।

অনলাইন এই জুয়ার কারণে বাড়ছে পারিবারিক অশান্তি। উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের ভুক্তভোগী গূহবধূ জানান, তাঁর স্বামী অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি পযর্ন্ত বিক্রি করেছেন। কিছু বললেই সে মারধর করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, তাঁর ছেলে স্থানীয় উচ্চবিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে। কিন্তু অনলাইন জুয়ার কারণে পড়ালেখায় মনোযোগ নেই। কৌশলে টাকা নিয়ে এটা খেলে। কোনোভাবেই বিরত রাখা যাচ্ছে না। 

পলাশবাড়ী থানা পুলিশ অনলাইন জুয়ার বিষয়ে খুবই সচেতন। তবে তারা অভিভাবকদের সহযোগীতা কামনা করেন।  

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কামরুল হাসান বিভিন্ন সভা-সেমিনারে আলোচনা সভায় অনলাইন জুয়া নিয়ে সচেতনতামূলক বক্তব্য প্রদান করে থাকেন। এবিষয়ে তিনি শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে বলেন,যাতে আর্থিকভাবে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়