১০ শ্রাবণ, ১৪৩১ - ২৬ জুলাই, ২০২৪ - 26 July, 2024
amader protidin

‘মোর খোঁজ-খবর আর কে নেবে বাবা?’

আমাদের প্রতিদিন
3 weeks ago
31


তাহাম্মেল হোসেন সবুজ, মিঠাপুকুর (রংপুর):

‘মোর খোঁজ—খবর আর কে নিবে বাবা? বাপ—মাওক হারাছো বহু বছর আগে। ভাতিজা ইদা মিয়া মোক বাপের মত দেখশুন করছিলো। আজ ইদা মিয়াও চলি গেল। মোর কি হোবে? আল্লাহ মোক নিলো না কেন?’ এভাবেই কাদতে কাদতে কথাগুলো বলছিল সেফটিক ট্যাংকে পড়ে মৃত্যুবরণ করা ইদা মিয়ার ফুফু মফিজন নেছা (৬০)। বৃহস্পতিবার সকালে ইদা মিয়া (৩৫), তার মা দোলোয়ারা বেগম (৫৫) ও প্রতিবেশি ইবলুল মিয়া (৩৫) মৃত্যুবরণ করেন।

ইদা মিয়া গোপালপুর ইউনিয়নের ধাপ উদয়পুর গ্রামের কায়েমের বাজার এলাকার বাদশা মিয়ার ছেলে। তার ঘরে ১ ছেলে ও ১ মেয়ে সন্তান রয়েছে। তিনি পাওয়ার ট্রিলারের মাধ্যমে ধানের চারা রোপন, কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ করত। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে শোকে মাতম চলছে পরিবারটিতে। ইদা মিয়ার স্ত্রী আতোশি বেগমও ক্ষনে ক্ষনে মূর্ছা যাচ্ছেন। স্কুল পড়–য়া মেয়ে রেমা বেগম কাঁদতে কাঁদতে বেহুশ। কান্না জড়িত কন্ঠে আতোশি বেগম বলেন, ‘মোর শ^াশুড়ি পাতা তুলব্যার গেছিলো। টেংকি ভাংগি পড়ি গেছে। হামার স্বামী তার বাঁচপার যায়া সেও মারা গেল। হামার কি হোবে,হামলা এখন কি করি খামো? হামার পরিবারের দু’জন মানুষ মরি গেল। হামরা কপাল পোড়া।’ মেয়ে রেমা বেগম বলেন, ‘আমার দাদিকে বাঁচাতে গিয়ে আমার বাবা ট্যাংকিতে নেমে পড়ে। সে আর উঠতে পারেনি। সেখানেই তিনি মারা যান। আমরা এখন বাবাহারা হলাম।’

সেফটিক ট্যাংকে পড়ে যাওয়া মা ও ছেলেকে বাঁচাতে সেখানে নেমে পড়েন প্রতিবেশি তবারক হোসেনের ছেলে ইবলুল মিয়া। তিনিও সেখানে আটকে পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্য এসে তাদেরকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। ইবলুল মিয়ার ঘরে ২ ছেলে সন্তান ও স্ত্রী রয়েছে। কৃষিকাজ করে চলত তার সংসার। স্ত্রী আখি বেগম বলেন, ‘ওমার মা—ব্যাটার বাঁচপার জায়া হামার স্বামী মারা গেল। হামার আর ক্যাউ নাই। হামরা খামো কি, বাঁচমো ক্যাংকা করি?’

ওই গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন বলেন, মা দেলোয়ারা বেগমের ২ ছেলে ও ৩ মেয়ে সন্তান। এরমধ্যে ইদা মিয়া বড়। আরেকজন ভাই প্রতিবন্ধি। মা—ছেলে মৃত্যুর ফলে ওই পরিবারে আর কোন কর্মক্ষম ব্যক্তি থাকল না। অপরদিকে ইবলুল মিয়ার পরিবার হতদরদ্রি। সে মুলত. ইদা মিয়ার সাথে কৃষিকাজ করত। এরকারণেই সে মা—ছেলেকে বাঁচানোর চেস্টা করেছে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি কারো।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়