৬ শ্রাবণ, ১৪৩১ - ২২ জুলাই, ২০২৪ - 22 July, 2024
amader protidin

পীরগাছায় বাড়ছে লটকনের আবাদ

আমাদের প্রতিদিন
1 week ago
46


কম খরচে বেশি লাভ

খবর বিজ্ঞপ্তির:

টসটসে রসালো হলুদ রংঙ্গের এই ফলের নাম স্থানীয় ভাষায় লটকন বলে, গাছ ফেটে বের হওয়া ফুল থেকে থোকায় থোকায় ঝুলে থাকে এই ফল লটকন। রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় লটকন চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পাচ্ছেন চাষিরা। পতিত ও সুপারি বাগানে লটকন চাষ হওয়ায় চাষীদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।

উপজেলা অন্নদানগর ইউনিয়নের উপ—সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আহসানুল হক জানান, উপজেলায় অন্নদানগরের অনেক চাষী তাদের পতিত জমিতে ও সুপারির বাগানে লটকন চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন। অনেক কৃষক লটকন বিক্রয় করে দামও ভালো পেয়েছেন। তাই কৃষকরা পতিত জমিতে লটকন বাগান সাজাতে ঝুকে পড়ছে। পতিত জমিতে প্রচুর ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য খনিজ উপাদান বিদ্যমান থাকায় লটকনের উৎপাদন ভালো হচ্ছে। স্বাদে—গন্ধে হচ্ছে মিষ্টি এবং আকৃতিতেও হচ্ছে বড় বড়। উপজেলার অন্নদানগর ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক চাষি বর্তমানে লটকন বিক্রি করে অর্থনৈতিক সাফল্য ফিরিয়ে আনছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,  উপজেলায় সবচেয়ে বেশি লটকনের বাগান রয়েছে অন্নদানগর ইউনিয়নে। ১০ বছর আগেও যেখানে কোন লটকনের বাগান ছিল না। তখন অন্যান্য ফলগাছের সাথেই দু—একটি গাছ লাগানো হতো। লটকন চাষিরা জানান, পূর্বসময়ে লটকনের তেমন চাহিদা ছিল না, দামও ছিল কম, সে কারণে কেউ লটকনের বাগান করার চিন্তা করত না। বর্তমানে চাহিদা ও মূল্য দু’টিই বেড়েছে।

রংনাথ মৌজার লটকন চাষি মো. জলিল মিয়া এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, একটি পূর্ণবয়স্ক লটকন গাছে ৫ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। অন্য ফসলের তুলনায় লটকনে উৎপাদন খরচ কম কিন্তু আয় অনেক বেশী। লটকন চাষে রোগ বালাই নেই । তিনি আরো বলেন,  আমার সুপারির বাগানে কয়েকটি গাছ রোপন করেছি। নতুন গাছ তাই লটকন কম, তারপরও আমি প্রায় ১৪ হাজার টাকা বিক্রয় করেছি। আমি তিন বছর থেকে লটকন বিক্রয় করছি, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার লটকনের দাম অনেক বেশি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী নজু মিয়া বলেন, আমি প্রত্যেক দিন সকালে বিভিন্ন বাগান থেকে লটকন কিনে তাম্বুলপুর বাজারে নিয়ে বিক্রি করি। লটকনের বাগান থেকে ৭০—৮০ টাকা করে কিনে বাজারে নিয়ে ১০০—১২০ টাকা দরে বিক্রি করে থাকি। এবার লটকনের দাম বেশি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা সন্জয় সরকার জানান, লটকন পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ফল। এতে অনেক পরিমাণ ভিটামিন ‘বি—টু’ ও ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। এছাড়া ফলটি ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, লৌহসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধ। ফলে মানবদেহে দৈনিক যে পরিমাণ ভিটামিন ‘সি’র প্রয়োজন হয়, মাত্র তিন—চারটি লটকন সে চাহিদা মেটাতে সক্ষম।

তিনি আরো বলেন, লটকনে রোগ বালাইয়ের তেমন সংক্রমণ না হওয়ায় উৎপাদন খরচ কম, ফলনও ভালো হয়। বাজারে লটকনের ন্যায্য দাম পাওয়ায় লটকন চাষিও লাভবান হচ্ছেন।

 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়