হাসপাতালে রুগীদের কে নিম্নমানের খাবার পরিবেশনের অভিযোগ
"রোগীরা খাবারগুলো হাসপাতালের ড্রেনে ফেলে দিচ্ছেন"
পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুরের পীরগঞ্জে ৫০ শয্যার উপজেলা হাসপাতালে নিম্ন মানের পথ্য (খাদ্য) সরবরাহ করায় প্রতি দিন মাত্র ২৫/২৬ জন রোগী খাদ্য নিচ্ছেন। খাওয়ার অযোগ্য হওয়ায় রোগীরা খাবারগুলো হাসপাতালের ড্রেনে ফেলে দিচ্ছেন। তবে পথ্য ঠিকাদার প্রতিদিন ৫০ জন হিসেবে প্রতিমাসেই বিল উত্তোলন করে নিচ্ছেন। নিম্ন মানের খাদ্যের ব্যাপারে অভিযোগ হলে একে অন্যকে দুষছেন। হাসপাতালটির অভ্যন্তরীন রোগীদের অভিযোগ ফাঁস হলে ঘটনা ধামাচাপা দিতে দৌঁড়ঝাপ শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, ৫০ শয্যার উপজেলা হাসপাতালটি পীরগঞ্জের প্রায় ৫ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে। হাসপাতালের অভ্যন্তরীন বিভাগে ভর্তিরত রোগীদেরকে ওষুধের পাশাপাশি প্রতিদিন সরকারীভাবে প্রতিদিন ১৭০/- টাকা মুল্যের ৩ বেলা (সকালে নাস্তা, দুবার ভাত) সাধারণ খাবার দেয়া হয়। এছাড়াও বিশেষ দিবসে প্রতি রোগীকে ২০০/- টাকায় উন্নতমানের পথ্য দেয়া হয়। হাসপাতালের পথ্যসরবরাহকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রংপুরের গঙ্গাচড়ার বুড়ির হাটের ‘ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল’ কর্তৃপক্ষ নিম্ন মানের খাবার দেয়ায় অধিকাংশ রোগী খেতে পারছেন না। আবার দিনে মাত্র ২৫/২৬ জন খাবার নিচ্ছেন। তবে প্রতিদিনই ৫০ জন হিসেবে মাসে বিল উত্তোলন করছেন। নিম্ন মানের খাবারের ব্যাপারে রোগীরা অভিযোগ করলেও খাদ্যগ্রহনকারী ইনচার্জ, কমিটিসহ সংশ্লিষ্টরা চুপ করে রয়েছেন।
সম্প্রতি রোগীরা বিষয়টি প্রকাশ করলে ঘটনা ধামাচাপা দিতে ওই ঠিকাদার এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। এমনকি রোগীদেরকেও ম্যানেজ করা হচ্ছে। গত ২৫ ডিসেম্বর হাসপাতালে ৬৬ জন রোগী ভর্তি থাকলেও ২৬ জন রোগীকে খাবার দেয়া হয় বলে জানা গেছে।
ভর্তিরত রোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিন মাত্র ২৫/২৬ জন রোগী খাদ্য নেন। কারণ হিসেবে রোগী এবং অভিভাবকরা জানান, একেবারে নিম্ন মানের খাবার, পরিমানে অল্প এবং অরুচিকর হওয়ায় তারা খাদ্য নিতে নারাজ। এছাড়াও প্রতি রোগীকে দেড়শ গ্রাম মুরগির মাংসের স্থলে ৫০/৬০ গ্রাম দেয়া হচ্ছে। ফলে রোগীরা নিজেদের বাড়ী, আত্মীয়-স্বজন বা বাইরে থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন। হাসপাতালটির পথ্য নজরদারীতে গঠিত কমিটির সদস্য আরএমও ডাঃ তারিকুল ইসলাম মন্ডল, নার্সিং সুপারভাইজার শ্রীমতি নমিতা রানী এবং অফিস সহকারী কামরুল ইসলাম খাদ্য বুঝে নিতে কোন ভুমিকা রাখছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। নার্স শিলা বেগম প্রতিদিন ভর্তিরত রোগীর দেয়া তালিকা দিলেও রোগীরা খাবার পাচ্ছেন না বা নিচ্ছেন না।
সুত্রে জানা গেছে, পথ্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাট ও আয়কর সহ গত আগষ্টে ২ লক্ষ ৭১ হাজার ২৫০ টাকা; সেপ্টেম্বরে ২ লক্ষ ৬৩ হাজার ৭৫০ টাকা; অক্টোবরে ২ লক্ষ ৭১ হাজার ২৫০ টাকা এবং নভেম্বরে ২ লক্ষ ৬২ হাজার ৫’শ টাকা বিল উত্তোলন করেছে। প্রতিমাসে রোগীদের খাবারের বিলের একটি মোটা অংশ হাসপাতালের কয়েকজন ভাগাভাগি করে নেন বলে বিশ্বস্ত সুত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তোলপাড় শুরু হয়। শনিবার ভর্তিরত রোগী উপজেলার গ্রামতলার শামছুন্নাহার বলেন, ৫ দিন ধরে ভর্তি আছি। দুইদিন খাবার দিছে। তাও খাওয়া যায় না। একই কথা বলেন, চতরার আল হাফিজ (১৮), জাহাঙ্গীরাবাদের মোকছেদ আলী (৩২), কসবা করিমপুরের সুনীল বাবু (৭৩) এবং রায়পুরের আঃ সামাদ মিয়া (৮১)। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২/৩ জন কর্মচারী বলেন, রোগীদের দেয়া খাবারের মান ভালো নয়। বড় স্যার খাদ্যের ব্যাপারে খোজ নিলে এমন হতো না। পথ্য ঠিকাদার শাহাজাহান আলী বলেন, আমি প্রতিদিনই ৫০ জন রোগীর খাবার রান্নার জন্য খরচ দেই। এখন থেকে খাবারে আর কোন সমস্যা হবে না। স্বাস্থ্য ও প. প কর্মকর্তা ডাঃ মীর হোসেন বলেন, নিম্ন মানের খাবারের অভিযোগ পেয়ে আমি বাবুর্চিকে বলেছি। সে আমাকে বলেছে, প্রতিদিনই ৫০ জনের মানসম্মত খাবার রান্না হয়। কিন্তু রোগীরা নেয় না, এমন দাবী করে তিনি আরও বলেন, এখন থেকে সবাইকে ভালো খাবার দেয়ার নির্দেশ দিবো।