১৯ মাঘ, ১৪২৯ - ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ - 01 February, 2023
amader protidin

দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে রংপুরের নদ-নদী

আমাদের প্রতিদিন
6 days ago
31


দখলকারীদের উচ্ছেদ ও নদীর প্রাণ ফিরিয়ে আনতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আবহাওয়া ও জলবাযুর পরিবর্তন এবং দখল-দূষণের কারণে বিরূপপ্রভাব পড়েছে রংপুরের নদ-নদীতে। খরা মৌসুমে তীব্র খরা আবার শীত মৌসুমে প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে প্রকৃতি স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে না। বৃষ্টিপাত কম হওয়া ও খরা মৌসুমে অপরিকল্পিতভাবে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করায় পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে।  এর ফলে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে নদ-নদীগুলো।

এক সময়ে নদীগুলো ছিল প্রাণের স্পন্দন। এখন হারিয়ে যেতে বসেছে অস্তিত্ব। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কৃষি, পরিবেশসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে।

নদী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের অধীনে রাষ্ট্রীয় পরিচর্যায় নদীগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। শতভাগ আগের অবস্থায় ফেরানো না গেলেও এখন নদীগুলো যে অবস্থায় আছে, তা অবিকৃত রাখার ব্যবস্থা করা সম্ভব। এমনকি অনেক দখলদারকে উচ্ছেদ করে নদীর প্রাণ ফেরানো সম্ভব। এতে নদীগুলো বিলুপ্তির কবল থেকে রক্ষা পাবে।

রংপুর জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র ও অনুসন্ধানে রংপুর জেলায় ২৯টি নদ-নদীর অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- তিস্তা, তিস্তা (নতুন), ঘাঘট, যমুনেশ্বরী, চিকলি, শাখা চিকলি, বুল্লাই, টেপরীর বিল, মরা, নলেয়া, মানাস, ধুম, খটখটিয়া, বাইশা ডারা,খারুভাঁজ, আলাইকুড়ি, বুড়াইল, বুড়াইল (মীরবাগ), ইছামতি, শ্যামাসুন্দরী, খোকসা ঘাঘট, আখিরা, ভেলুয়া, কাঠগিরি, নেংটি ছেড়া, করতোয়া, সোনামতি, নলশীসা ও মাশানকুড়া। রংপুরের এতগুলো নদী থাকলেও সবগুলোর স্বীকৃতি নেই। এই নদীগুলোর অতীত খুবই সমৃদ্ধ ছিল। একসময়ের প্রাণচাঞ্চল্য নদীগুলো দখল করে গড়ে উঠছে বসতি এবং ফসলের ক্ষেত। অনেক স্থানে এসব নদীর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক সময় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর, সদর উপজেলা, কাউনিয়া ও পীরগাছায় প্রায় ৮০ কিলোমিটার বিস্তৃতি ছিল মানাস নদীর। এ নদীর এখন কোনো অস্তিত্ব নেই বললে চলে। জমির বুক চিড়ে বেড়িয়ে এসেছে হাজার হাজার একর আবাদি জমি। নৌকার পরিবর্তে সেখানে চলছে এখন কলের লাঙল। ৪ দশক আগেও মানাস নদীতে নৌকা চলেছে পাল তুলে। হাজার হাজার জেলে মাছ মেরে জীবিকা নির্বাহ করেছে। সেই মানাসের বুকে এখন ফসলের আবাদ হচ্ছে। মানাস নদীতে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ৫০টির মতো খেয়াঘাট ছিল। সেগুলো এখন অতিত।

সরেজমিনে কাউনিয়ার মানাস নদী ও নগরীর ঘাঘট নদীর  বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এক সময়ের প্রাণচাঞ্চল্য এসব নদী এখন মরা নদীতে পরিনত হয়েছে। পানি না থাকায় স্থানীয় কৃষকরা বোরো ধান চাষ করার জন্য মানাস নদী জুড়েই ধানের বীজতলা তৈরি করেছে।

কাউনিয়া উপজেলার  টেপামধুপুর লালমসজিদ এলাকার কৃষক মো. আমিন জানান, মানস নদীতে এবার খুব সহজেই বীজতলা তৈরি করা গেছে। কৃষক শফিকুল জানান, নদীতে পানি কম থাকায় এবং কাদা থাকায় তেমন কোনো খরচ ছারাই বীজতলা তৈরি করা গেছে। তাদের মত অনেকেই নদীর বুকে চাষাবাদ করছেন। এসব অবৈধ দখল হলেও প্রতিকারে কেউ এগিয়ে আসছে না।

বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও লেখক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এক সময় মানাসের বুকচিড়ে বারমাস নৌকা চলত। এখন মানাস নদীর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া মুসকিল। নদী মরে গিয়ে সেখানে হয়েছে আবাদি জমি। অনেকে নদীর জমি দখল করে আবাদ করছেন। এ বিষয়ে কারও কোনো পদক্ষেপ নেই।

একই অবস্থা ঘাঘট নদীর। রংপুর নগরীসহ মিঠাপুকুর ও গঙ্গাচড়া উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘাঘটকে কেন্দ্র করেই এসময় গড়ে উঠেছিল নদী বন্দর। ঘাঘট নদীর উপর দিয়ে অনেক স্থানেই ব্রিজ হয়েছে। একই অবস্থা বুড়াইল, শালমারা নদীর। এসব নদীতে জেগে ওঠা চর দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বসতি ও ফসলের খেত।

রিভারাইন পিপলের পরিচালক, নদী বিষয়ক গবেষক ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, রংপুরে মানাস, বুড়াইল, শালমারা ও ঘাঘটসহ জেলার নদ দখল-দূষণে হারিয়ে যেতে বসেছে। এসব নদীতে শত শত অবৈধ দখলকারী রয়েছে। তিনি নদী দখলকারীদের উচ্ছেদ ও নদীর প্রাণ ফিরিয়ে আনতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়