৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ - ১৭ মে, ২০২৬ - 17 May, 2026

রাজনৈতিক গণতন্ত্রের সাথে অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন নিশ্চিত করতে হবে............রংপুরে আমির খসরু

523
2025-08-01 05:11:25

news-picture

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন রাজনৈতিক গণতন্ত্রের সাথে অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও দল ও বিশেষ ব্যক্তিকে সুবিধা দিয়ে সত্যিকারের পরিবর্তন আসবে না তাই দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আনতে হবে। তিনি বলেন, অনিবার্চিত সরকারের কারনে আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি, দেশ পিছিয়ে যাচ্ছে । তাই এই মুহুর্তে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার দরকার।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সকালে রংপুর চেম্বার ভবন আয়োজিত  ভবনের হলরুমে “রংপুর বিভাগের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নের রাজনৈতিক অঙ্গীকার” শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনা পলায়নের পরে এদেশের মানুষের অনেক আশা পূরণ হয়েছে। পাশাপাশি মানুষের আশা আকঙ্খা অনেক বেড়ে যাচ্চে। মানুষের এখন ধৈয্য কম। অল্প সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে সেদিকে কাজ করছে বিএনপি।

রংপুর বৈষম্যের স্বীকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমাকে বলতে হবে না আমি জানি। রংপুরের মানুষকে কাজের জন্য আর বাইরে যেতে হবে না। আগামী দিনে রংপুরে দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। আগামী দিনে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে নতুন প্রতিষ্ঠান সৃষ্টিতে উদ্যোক্তাদের আবেদন পুরোপুরি অনলাইন নির্ভর হবে। এতে করে সরকারী দপতরে থাকবেনা দূর্ণীতি বা ঘূষ বাণিজ্য। এসময় ক্ষমতায় গেলে ১৮ মাসে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন বিএনপির অন্যতম এই শীর্ষ নেতা।

বর্তমান শাসকগোষ্ঠী দেশের জনগণ ও ব্যবসায়ীদের জন্য নয় বলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেছেন, ‘নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে প্রশাসন ও অর্থনীতিকে জিম্মি করে রেখেছে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী। এই দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘অনির্বাচিত সরকারের কারণে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যাচ্ছে, অর্থনীতির গতি থমকে গেছে। এর অবসান ঘটাতে হলে দ্রুত একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অপরিহার্য।’

স্বৈরাচার পলায়নের পর ‘‘নতুন প্রত্যাশা’’ সৃষ্টি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচার হাসিনার পলায়নের পর মানুষের মনে বড় পরিবর্তন এসেছে।

এখন আর প্রতিশ্রুতির বন্যা মানুষ গ্রহণ করে না। জনগণ বাস্তবায়ন চায়, অংশগ্রহণ চায়, ফল চায়। বিএনপি সেই বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে আগামী দিনের পরিকল্পনা নিচ্ছে, যাতে অর্থনীতি ও রাজনীতি পরস্পর সহযোগী হয়ে ওঠে।’

বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, ‘আগামীতে কোনো বিশেষ গোষ্ঠী আর দেশের অর্থনীতি কুক্ষিগত করতে পারবে না। প্রতিটি নাগরিক যেন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারে, সেই সুযোগ তৈরি করব আমরা। উত্তরাঞ্চলে তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে ঘিরে লাখো তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব এটি বিএনপির অগ্রাধিকার।’

মতবিনিময় সভায় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, চরম বৈষম্যের শিকার রংপুর অঞ্চল। এ অঞ্চলের মানুষ সহজ সরল, তাই তাদেরকে নিয়ে কেউই ভাবে না। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে রংপুর অঞ্চল কে এগিয়ে নিতে কাজ করা হবে।

দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নও চেয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, বিগত কোন সরকারই রংপুর অঞ্চল কে নিয়ে ভাবেনি। তাই পিছিয়ে পড়েছি আমরা।  এই বৈষম্যের শিকল ভাঙ্গতে হবে। এগিয়ে নিতে হবে রংপুর বিভাগকে।

রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এমদাদুল হোসেন এর সভাপতিত্বে রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, সদস্য সচিব আনিসুর রহমান লাকু, মহানগর আহবায়ক সামসুজ্জামানা সামু, বিএনপি নেতা এমদাদুল হক ভরসাসহ রংপুর বিভাগের আট জেলার চেম্বার নেতৃবৃন্দ ও মেট্রো চেম্বার এবং উইমেন চেম্বার অব কমার্সের নেতৃবৃন্দরাও উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়