৮ বৈশাখ, ১৪৩৩ - ২১ এপ্রিল, ২০২৬ - 21 April, 2026

ভূরুঙ্গামারীতে ব্যবসায়ীদের  চাল গোডাউন সিলগালা

1 month ago
285


ভূরুঙ্গামারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধিঃ

ভূরুঙ্গামারীর বলদিয়া ইউনিয়নের ব্যবসায়ীদের ৫শতাধিক চালের বস্তাসহ ৪টি গুদাম সীলগালা করেছে উপজেলা প্রশাসন।

জানাগেছে গত বৃহস্পতিবার অত্র ইউনিয়নের কাশেমবাজারে অবস্থিত  ব্যবসায়ীদের চাল গোডাউনের   চালের বস্তা সহ গোডাউন  সিলগালা করেন (অতি:দা:)সহকারী কমিশনার ভূমি নির্বাহী  ম্যাজিস্ট্রেট বদরুজ্জামান রিশাদ।

উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের কাশিম বাজারের  রফিকুল ইসলাম,ছমের আলী,জহির উদ্দিন,সোনাউল্লাহর নেতৃত্বে কয়েকজব  ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন থেকে চালের ব্যবসা করে আসছে।গত কয়েক মাসে উপজেলার বঙ্গসোনাহাট, বলদিয়া নাগেশ্বরী উপজেলার কেদার,বল্লভেরখাষ, কচাকাটা ইউনিয়ন থেকে  খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির, ভিজিএফ, টিসিবি চাল ক্রয় করে গুদামগুলোতে মজুদ করে রাখে।  গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভূরুঙ্গামারী সার্কেল) মুনতাসির মামুন মুন এর নেতৃত্বে এক দল পুলিশ ১৮ মার্চ মধ্য রাতে অভিযান চালিয়ে গোডাউনে মজুদ  করা এসব চাল দেখতে পেলে তারা পুরো  গোডাউন পুলিশ পাহারায় রাখার পর ১৯ মার্চ  বৃহস্পতিবার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক  হামিদুল হক যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ময়দান আলী   কচাকাটা থানার ওসি অর্পন কুমার দাস এর উপস্থিতে নাগেশ্বরী  উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বদরুজ্জামান রিশাদ গোডাউন সিলগালা করেন। চাল ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম, মফিজ উদ্দিন, ছমের আলী, আব্দুল মজিদ  সোনা উল্ল্যা  জানান, আমরা কয়েকজন  ব্যাবসায়ী মিলে

তিন চার মাস পূর্বে থেকে ক্রয়কৃত খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির, ভিজিডির, টিসিবি সহ বিভিন্ন কর্মসূচির বিতরণকৃত চাল অনেক উপকার ভোগির কাছ থেকে বিভিন্ন ইউনিয়নের খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ক্রয় করে ওই সব চাল গোডাউনে মজুদ করে রাখি কিন্তু  আমাদের মহাজন চালের দাম কম বাকীতে নিবে বিধায় আমরা চালগুলো না দিয়ে গোডাউনে মজুদ রাখি। পুলিশ কেন ? আমাদের গোডাউন পুলিশ পাহারায় রাখছেন এটা আমরা বুঝতে পারছি না।

দিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি রাজনৈতিক প্রতি পক্ষ ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বারদের ফাসানোর চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।

ব্যাপারে অত্র ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক জানান, গত ১৭ মার্চ ট্যাগ অফিসার এর উপস্থিতিতে ভিজিএফ এর চাল বিতরণ সম্পন্ন করা হয়েছে। অথচ ১৮ মার্চ মধ্য রাতে চাল ব্যবসায়ীদের টি গুদামের প্রায় ২৫ মে:টন চাল জব্দ করা হয়। ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে চাল ক্রয় করে গুদামে মজুদ করে চালের সাথে  ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বারদের কোন সম্পৃক্ততা নেই। একটি কুচক্রী মহল ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বারদের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করার উদ্দেশ্যে মনগড়া অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি ঘটনার নিন্দা জানান।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও জানান, বিভিন্ন প্রোগ্রামের টিসিবি, খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির, ভিজিডির সহ বিভিন্ন কর্মসূচির বিতরণকৃত চাল কতিপয় উপকারভোগী উত্তোলনের পর যদি বিক্রি করে সেটা কি আমরা পাহাড়া দিয়ে রাখতে পারব ?

খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির উপকার ভোগি মর্জিনা, শরিফা, আনোয়ারা কামরুন্নাহার জানান, পনের টাকা কেজি দরে ৪শত ৫০ টাকায় চাল কিনে  হাজার  টাকা বস্তাসহ বিক্রি করে বাচ্চাদের কাপড় চোপড় একটি পালিত গাভীর খাবার ফিট কিনেছি।

আরো কয়েকজন  সুবিধা ভোগী জানান ১৬ শতাংশ জমি বর্গা নিয়ে ধান আবাদ করেছিলাম সেই হাতের চালের ভাত খাচ্ছি তাই বেশি দামে চালের বস্তা বিক্রি করে সংসারে বাড়তি আয় হয়েছে।

ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন জানান, আগামী কাল ঈদ উল ফিতরের ছুটি যেহেতু বিষয়টি তদন্তের ব্যাপার তাই গোডাউন সিলগালা করে রাখা হয়েছে পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

উক্ত ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভূরুঙ্গামারী সার্কেল) মুনতাসির মামুন মুন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাশেমবাজারে অবস্থিত ব্যক্তিগত গোডাউনে অবৈধভাবে কিছু সরকারী বস্তায় কিছু লুছ বস্তায় চাল মজুদ করা দেখতে পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় সিলগালা করে রাখা হয়েছে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

// Set maxWidth