পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে রংপুরের খামারীরা
আব্দুল্লাহ আল আমিনঃ
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রংপুর জেলার ৮ উপজেলায় গবাদি পশুর খামারগুলোতে এখন চলছে ব্যাপক ব্যস্ততা। খামারগুলোতে কোরবানির পশু লালন পালনে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন খামারিরা। গত বছর ভারতীয় গরু প্রবেশ সীমিত থাকায় স্থানীয় খামারিরা ভালো লাভবান হওয়ায় এ বছর অনেকেই নতুন উদ্যমে বাণিজ্যিকভাবে গবাদি পশু পালন করছেন। এবার রংপুর জেলার আট উপজেলায় কোরবানির জন্য প্রায় ৩ লাখ ৬৬ হাজার গবাদি পশু প্রস্তুত করেছেন খামারি ও গৃহস্থরা। এ সব প্রস্তুতকৃত পশুর বিপরীতে জেলায় কোরবানির চাহিদা রয়েছে প্রায় ২ লাখ ২৬ হাজারের কিছু বেশি। এতে চাহিদার তুলনায় প্রায় ১ লাখ ৩৯ হাজার পশু বেশি থাকার পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।
কোরবানির বাজারে ভালো দামের আশায় গবাদিপশুর যত্ন সহকারে পরিচর্যা করছেন খামারি ও গৃহস্থরা। অনেক খামারি ইতোমধ্যে খামার থেকে গরু বিক্রি শুরু করেছেন। কেউবা আবার বিক্রির পথ বেছে নিয়েছেন অনলাইন প্লাটফর্ম। এবার এ অঞ্চলের চাহিদা পূরণ করে উদ্বৃত্ত পশু অন্য এলাকায় সরবরাহ করা যাবে। তবে গো-খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় পশুর দাম কিছুটা বেশি হবে বলে জানান খামারীরা।
অপরদিকে বাজারে সেভাবে গরু দেখা না গেলেও উঠতে শুরু করেছে গরু, ছাগলসহ কোরবানীর পশু। বাজার সূত্রে জানা যায় এখন গরু-ছাগলের বাজার স্বাভাবিক আছে এ মাসের মাঝামাঝি সময় হতে কোরবানীর পশুর চাহিদা বাড়বে।
গরুর খাদ্যে খামারিরা প্রাকৃতিক ঘাসের পাশাপাশি খৈল, গমের ভূষি, ধানের কুঁড়া এবং নিজেদের তৈরি দানাদার খাবার খাইয়ে পশু মোটাতাজা করছেন। ব্যস্ত খামারিরা পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিত ভ্যাকসিন ও চিকিৎসা সেবাও নিশ্চিত করছেন। তবে পশু পালন করতে গিয়ে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখিও হচ্ছেন খামারিরা। বিশেষ করে গো-খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি তাদের দুশ্চিন্তার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খাদ্যের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে কাঙ্খিত লাভ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন অনেক খামারি।
স্থানীয় খামারি শাহিন বলেন, “গত বছর ভারতীয় গরু না আসায় দেশীয় খামারিরা ভালো দাম পেয়েছিল। সেই আশা নিয়েই এবার আমরা বেশি করে পশু লালন-পালন করেছি। বাজারে কোরবানির পশুর ন্যায্যমূল্য পেলেই খামারিরা লাভবান হবে”।
খামারি জালাল, ছালামসহ কয়েকজন বলেন, “আমরা পবিত্র ঈদুল আজহার পশু বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছি। যদি ভারত হতে গরু না আসে তবে ন্যায্য দাম পাবো বলে আশা করছি”।
তারা আরো বলেন, “গরুর খাবারের দাম বেশী হওয়ায় আমাদের ব্যয় অনেক বেশী তাই ন্যায্য মূল্য পেতে হলে অবশ্যই বাইরের গরু আনা যাবে না”।
খামারিদের প্রধান দাবি হলো, “দেশীয় খামারিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে যেন সীমান্ত পথে ভারতীয় গরু প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তাদের বিশ্বাস, বিদেশি পশুর প্রবেশ কম থাকলে স্থানীয়ভাবে লালন-পালন করা পশুর ভালো দাম মিলবে এবং খামারিরা লাভবান হবে”।
জানতে চাইলে রংপুর ডেইরি ফার্মার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার লতিফুর রহমান মিলন বলেন, “ কোরবানির জন্য এবার রংপুরে ব্যাপক গবাদি পশু রয়েছে। ভারতীয় গরু দেশে প্রবেশ না করলে খামারিরা আসন্ন কোরবানির হাটে ন্যায্য মূল্য পাবেন। এবারে বিশ্ব বাজারে খাদ্যের দাম বেশি দেশের ও একই অবস্থা তাই ন্যায্য মূল্য না পেলে খামারীরা লোকসানে থাকবে। এ ব্যাপারের সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি”।
তিনি আরো বলেন “আমাদের সংগঠনের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করছি যাতে খামারিরা সুন্দরভাবে ভালো পরিবেশে কোরবানির পশু বিক্রি করতে পারে পাশাপাশি হাটের যায়গা যেনো নিরাপত্তা ব্যাষ্ঠিত থাকে খামারিরা যেনো নিরাপত্তার মধ্যে থেকে কোরবানির পশু বিক্রি করতে পারে ক্রেতারা কিনতে পারে সে ব্যাপারে আমরা নজর রাখছি”।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মুহা: নাজমুল হুদা জানান, “এ বছর রংপুর জেলায় কোরবানির পশু বিক্রির উদ্দ্যেশে আট উপজেলার প্রায় ২৫ হাজার খামারির ঘরে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৫৮২ টি গরু ও ২লাখ ১০ হাজার ৮শত টি ছাগল ও ভেড়া বাজারে বিক্রির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এবার জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রপ্তানি করা যাবে প্রায় ১ লাখ ৩৯ হাজারের ও বেশি গবাদিপশু। পাশাপাশি খামারীদের সকল সহযোগিতার কথাও জানান এই কর্মকর্তা”।