গঙ্গাচড়ায় জনসাধারণের রাস্তা বন্ধের পাঁয়তারায় উত্তেজনা, সরেজমিনে তদন্তে এসিল্যান্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের চওড়া পাড়া এলাকায় জনসাধারণের চলাচলের একটি রাস্তা বন্ধের পাঁয়তারার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন গঙ্গাচড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হামিদুল ইসলাম।
রবিবার (১০ মে) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি সরেজমিনে গিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন এবং রাস্তার সঠিক অবস্থান নির্ধারণে আগামী ২৩ মে মাপজোক করা হবে বলে জানান।
পরিদর্শন শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হামিদুল ইসলাম বলেন, “সরকারি আইনে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত কোনো রাস্তা জনসাধারণের চলাচলের দাবির মধ্যে পড়ে। উভয় পক্ষের জমিজমার কাগজপত্র যাচাই করে এমনভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে কোনো পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।”
তিনি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের মন্ডলের হাট রোড সংলগ্ন চওড়া পাড়ায় পাকা সড়ক থেকে উত্তর ও পশ্চিম দিকে বিস্তৃত প্রায় ১২ ফুট প্রশস্ত ও প্রায় ১ হাজার ২০০ গজ দীর্ঘ রাস্তাটি প্রায় ২৭-২৮ বছর আগে সরকারি খরচে নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে কয়েকশ পরিবার এ রাস্তাটি ব্যবহার করে আসছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত ২৮ এপ্রিল বিকেলে কয়েকজন ব্যক্তি ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে এসে রাস্তার ওপর জোরপূর্বক ১০টি খুঁটি স্থাপন করেন। এতে অটোভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হয় এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
এ ছাড়া শুক্রবার (৯ মে) দুপুরে পুনরায় ইট ফেলে রাস্তা বন্ধের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়।
রাস্তা বন্ধের পাঁয়তারার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইলিয়াস আলী (৫০), ইউনুস আলী (৫৫), মোখলেছুর রহমান (৪৫) ও আব্দুর রাজ্জাকের (২৮) বিরুদ্ধে।
এদিকে রাস্তা সংলগ্ন এলাকায় একটি নতুন মহিলা মাদ্রাসার নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হবে।
পরিদর্শনকালে আলমবিদিতর ইউনিয়নের প্রশাসক ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আফতাবুজ্জামান চয়ন, স্থানীয় ইউপি সদস্য, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এ বিষয়ে গত ১০ মে আমাদের প্রতিদিন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয় এবং প্রশাসনের নজরে আসে।
এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা উন্মুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।