নিয়মিত দেরিতে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির অভিযোগে সরেজমিনে সাংবাদিক হাজিরা খাতায় সময় জালিয়াতির অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের আবুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক শামসুজ্জামান ওরফে ওয়াফির বিরুদ্ধে নিয়মিত দেরিতে বিদ্যালয়ে আসা এবং হাজিরা খাতায় ভুল সময় উল্লেখ করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয় শুরু হওয়ার নির্ধারিত সময় পেরিয়ে সকাল ৯টা ২৬ মিনিটে প্রধান শিক্ষক শামসুজ্জামান বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। তবে সাংবাদিকদের সামনেই তিনি হাজিরা খাতায় আগমনের সময় “সকাল ৯টা” উল্লেখ করে স্বাক্ষর করেন।
বিদ্যালয়ের উপস্থিতি খাতা ঘেঁটে জানা যায়, ওই সময় বিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষকের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাত্র দুইজন। সহকারী শিক্ষক হিরন্ময় বর্মণ ও রুমান বাবু সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন। অপর সহকারী শিক্ষক রেহেনা বেগম সন্তানের হাম টিকা দেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষকের কাছে মৌখিক ছুটি নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক ও এলাকাবাসী জানান, প্রধান শিক্ষকের বাড়ি বিদ্যালয়ের কাছাকাছি হলেও তিনি প্রায়ই দেরিতে বিদ্যালয়ে আসেন। এতে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলার অভাব দিন দিন বাড়ছে।
এদিকে সহকারী শিক্ষক রুমান ইসলামের মুঠোফোনে সাংবাদিক উপস্থিতির খবর পৌঁছানোর পরপরই প্রধান শিক্ষক দ্রুত বিদ্যালয়ে আসেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক শামসুজ্জামান বলেন,
“সকালে গ্যাস্ট্রিকজনিত সমস্যার কারণে সময়মতো বিদ্যালয়ে আসতে পারিনি।”
তবে পরে বিস্তারিত বক্তব্য দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমার কোনো কিছু বলার নেই।”
এ বিষয়ে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কেশব চন্দ্র বর্মন বলেন,
“বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। এ নিয়ে দ্রুত কথা বলা হবে।”
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা জেসমিন সাঈদ বলেন,
“আমি নিজে সকাল ৯টার মধ্যেই অফিসে আসি। শিক্ষকদেরও সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকার জন্য বারবার বলা হয়। তারপরও তিনি দেরিতে আসেন বলে অভিযোগ পাচ্ছি।”