৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ - ২১ মে, ২০২৬ - 21 May, 2026

তারাগঞ্জ মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে হাঁটু পানি শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিপূর্ণ পাঠদান

38
2026-05-21 14:11:54

news-picture

প্রবীর কুমার কাঞ্চন,তারাগঞ্জ (রংপুর):

এক হাতে স্যাণ্ডেল ও অন্য হাতে বই নিয়ে হাঁটু পানি মারিয়ে শ্রেনি কক্ষে যেতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের।  মাঠে জলাবদ্ধতার কারনে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবকসহ শিক্ষার্থীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।  রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা সদরের তারাগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যে মাঠে শিশু শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা করার কথা, সেই স্কুল মাঠ ভড়ে উঠেছে থই থই পানিতে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল সাড়ে ১০ টায় সরেজমিনে দেখা গেছে, কয়েক দিনের টানা বর্ষনে বিদ্যালয়ের মাঠে হাঁটু পানি জমে রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকলেও শিক্ষার্থীরা শ্রেনিকক্ষ ছেড়ে মাঠে নামতে পারছে না। অনেক শিক্ষার্থীদের হাঁটু পানিতে ভিজে ক্লাসে যেতে হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারনে শ্রেনিকক্ষে যাতায়াতের সময় শিক্ষার্থীরা পা পিছলে পড়ে যায়। এতে নোংরা হয় তাদের জামাকাপড়. ভিজে যায় বই খাতা।  এছাড়া মাঠে জমে থাকা পানির কারনে শিক্ষার্থীরা শরীরচর্চা ও জাতীয় সংগীত গাইতে পারে না। এতে করে স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের মাঠে পানি জমে থাকায় শিক্ষার পরিবশে ব্যাহত হচ্ছে, ঠিত তেমনিভাবে ঝুঁকির মধ্যেও রয়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। এ পরিস্থিতিতে দ্রুততার সঙ্গে বিদ্যালয় মাঠের জলাবদ্ধতা নিরসনের জোর দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। পঞ্চম শ্রেনীর শিক্ষার্থী আল আমিন, রেবেকা আক্তার বলেন, তারা বাড়িতে বদ্ধ অবস্থায় থাকে, আবার বিদ্যালয়ে এসে শ্রেণিকক্ষেও একই অবস্থা। চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী জেসমিন আরা বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই আমাদের স্কুল মাঠে হাঁটু সমান পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তৃতীয় শ্রেনী শিক্ষার্থী জেসমিন ও রেহেনা আক্তার বলেন, প্রতিবছর বর্ষার সময় আমাদের স্কুলে হাঁটু পানি  জমে। এক হাতে স্যাণ্ডেল ও আর এক হাতে বই নিয়ে পানির ওপর দিয়ে  ক্লাসে যেতে হয়। তারা আরো বলেন, এই কদিনে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী স্কুলে আসছেন না। কারন তারা স্কুলে আসার সময় পানিতে পড়ে গিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, মাঠটি  শুধু স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদেরই নয়, এলাকার যুবকদেরও খেলাধুলার জন্য। মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করা এবং পানি নিস্কাশনের নালা বন্ধ করে বাড়িঘর নির্মান করায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু জলাবদ্ধতা নিরসনে বাস্তবভিত্তিক কোন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকা ফেরদৌস আরা জানান, স্কুলের মাঠে হাঁটু পানি জমে থাকার কারনে শিক্ষার্থীরা স্কুলের আসতে চাচ্ছে না। স্কুলের মাঠে মাটি ভরাটের জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে একাধিক জানানো হয়েছে কিন্তু কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোনাববর হোসেন জানান, স্কুলটি পরিদর্শন করেছি। বিদ্যালয়ের মাটের আশপাশের স্থানীয় লোকজন পানি যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়