৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ - ২১ মে, ২০২৬ - 21 May, 2026

গঙ্গাচড়ায় লাম্পি স্কিন ডিজিজের ভয়াবহতা, ১৫ দিনে প্রায় দুই শতাধিক গরুর মৃত্যু

158
2026-05-20 18:46:35

news-picture

নির্মল রায়:

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় গবাদিপশুর মধ্যে ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়েছে লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি)। গত ১৫ দিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এ রোগে প্রায় দুই শতাধিক গরুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আক্রান্ত হচ্ছে শত শত গরু। এতে খামারিদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

লাম্পি স্কিন ডিজিজ (LSD) হলো গরু ও মহিষের একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত চর্মরোগ। ক্যাপ্রিপক্স (Capripox) ভাইরাসের কারণে এ রোগ হয়ে থাকে। যদিও এটি মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয় না, তবে খামারিদের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গবাদিপশুর পল্লী চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত ১৫ দিনে প্রায় দুই শতাধিক গরুর মৃত্যু হয়েছে। এর বেশিরভাগই বাছুর। আক্রান্ত গরুর শরীরে জ্বর, খাবারে অরুচি, চোখ ও নাক দিয়ে পানি পড়া এবং শরীরজুড়ে শক্ত গুটি বা ক্ষতের সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্ত গরু দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সময়মতো চিকিৎসা না পেলে মারা যাচ্ছে।

কোলকোন্দ ইউনিয়নের কৃষক পলাশ চন্দ্র রায় বলেন, “আমার একটি গরু লাম্পি রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। প্রথমে জ্বর আসে, পরে শরীরজুড়ে গুটি দেখা দেয়। অনেক চেষ্টা করেও গরুটা বাঁচাতে পারিনি।”

গজঘন্টা ইউনিয়নের ছালাপাক এলাকার কৃষক আবুল মিয়া বলেন, “আমার একটি গাভী লাম্পি রোগে মারা গেছে। কয়েকদিন ধরে জ্বর ও শরীরে গুটি ছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসা করাই, কিন্তু শেষ পর্যন্ত গরুটি মারা যায়। এলাকায় অনেক খামারির গরু আক্রান্ত হচ্ছে। এতে আমরা খুব চিন্তায় আছি।”

গঙ্গাচড়া উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. ইউসুফ আলী সরকার বলেন, “লাম্পি স্কিন ডিজিজ একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত গরুকে দ্রুত আলাদা রাখতে হবে এবং মশা-মাছি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দিতে হবে। গরুর শরীরে গুটি বা জ্বর দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। খামার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, আক্রান্ত পশুর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত জীবাণুনাশক ব্যবহার করলে সংক্রমণ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, “খামারিদের আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হতে হবে। সময়মতো চিকিৎসা দিলে অধিকাংশ গরুই সুস্থ হয়ে ওঠে।”

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহফুজার রহমান বলেন, “আমাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে, তাতে উপজেলায় লাম্পি রোগের সংক্রমণ বেড়েছে। প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি আক্রান্ত গরু চিকিৎসার জন্য প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে নিয়ে আসছেন খামারিরা। যারা আক্রান্ত হওয়ার পরপরই হাসপাতালে নিয়ে আসছেন, তাদের বেশিরভাগ গরুই সুস্থ হয়ে উঠছে। তবে দেরিতে চিকিৎসা নেওয়ার কারণে কিছু ক্ষেত্রে গরুর মৃত্যু ঘটছে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রাণিসম্পদ বিভাগ মাঠপর্যায়ে খামারিদের সচেতন করতে কাজ করছে। আক্রান্ত পশুকে আলাদা রাখা, খামারে জীবাণুনাশক ব্যবহার এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ প্রয়োগের জন্য খামারিদের অনুরোধ জানানো হচ্ছে।”

এদিকে, দ্রুত রোগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়