৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ - ২৪ মে, ২০২৬ - 24 May, 2026

সরকারি রাস্তায় গর্ত খনন ও বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধের অভিযোগ, গঙ্গাচড়ায় চরম ভোগান্তিতে দুই শতাধিক পরিবার

147
2026-05-23 16:09:26

news-picture

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের আলেকিশামত মাঝাপাড়া এলাকায় সরকারি রেকর্ডভুক্ত একটি রাস্তা গর্ত খনন ও বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের মানুষ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

এ ঘটনায় শনিবার (২৩ মে) গঙ্গাচড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কোলকোন্দ ইউনিয়নের গোডাউনের হাট সংলগ্ন আলেকিশামত মাঝাপাড়া ঈদগাহ মাঠ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সরকারি রেকর্ডভুক্ত একটি রাস্তা দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা চলাচল করে আসছিলেন। কিন্তু শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে হঠাৎ করে ওই রাস্তায় বড় বড় গর্ত খনন করা হয় এবং রাস্তার দুই পাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়া হয়।

এতে গ্রামের সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে চলমান বর্ষা মৌসুমে চারদিকে পানি জমে থাকায় ওই রাস্তা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ না থাকায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের যাতায়াতে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছে। সামনে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাইরে কর্মরত অনেকেই বাড়িতে ফিরছেন। কিন্তু রাস্তা বন্ধ থাকায় বাড়িতে প্রবেশ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

লিখিত অভিযোগে আলেকিশামত মাঝাপাড়া গ্রামের আবুল কালাম, মিজানুর রহমান, আব্দুল বাতেন ও আব্দুর রাজ্জাকসহ আরও অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে রাস্তা বন্ধ করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, রাস্তা বন্ধের কোনো যৌক্তিক কারণ তাদের জানানো হয়নি। কেউ কেউ ধারণা করছেন, ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল বা চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে রাস্তা বন্ধ করা হতে পারে। তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, রাস্তা বন্ধ করার সময় স্থানীয় কয়েকজন মোবাইলে ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদের বাধা দেয়া হয়। এমনকি মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়ার চেষ্টা ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। পরে গোপনে ধারণ করা কয়েকটি ছবি অভিযোগপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়।

এলাকাবাসীর দাবি অনুযায়ী, রাস্তাটির সিএস দাগ নং-১৭৬, আরএস দাগ নং-৩৮৫, খতিয়ান নং-১, জেএল নং-৮ এবং মৌজা আলেকিশামত হিসেবে সরকারি রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হামিদুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগপত্র পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। সরকারি রাস্তা দখল বা চলাচলে বাধা দেয়ার সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে দ্রুত সরকারি রাস্তা পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। অভিযোগপত্রে এলাকাবাসীর পক্ষে আব্দুল হামিদ, মজিবর রহমান, রুহুল আমিন ও সাইদুল ইসলাম স্বাক্ষর করেন।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়