কেজি ৫ টাকার প্রস্তাবে ক্ষুব্ধ কৃষকরা: গঙ্গাচড়ায় আলু তুলে বিপাকে চাষিরা
নির্মল রায়:
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় আলু উত্তোলনের মৌসুম শুরু হয়েছে। তবে মাঠ থেকে আলু তুলেই বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আলু চাষিদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেক জায়গায় ক্রেতারা আলুর দাম কেজি প্রতি মাত্র ৫ টাকা প্রস্তাব করায় কৃষকরা লোকসানের আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
কৃষকরা জানান, আলু চাষে বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ, জমি প্রস্তুত ও শ্রমিক খরচসহ বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বাজারে যে দাম বলা হচ্ছে, তাতে উৎপাদন খরচ তো উঠছেই না, বরং বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।
উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের খানাটারী গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ (৫৫) বলেন, আলু চাষ করতে আমাদের অনেক টাকা খরচ হয়েছে। বীজ, সার ও কীটনাশকের দাম অনেক বেশি। এখন যদি কেজি ৫ টাকায় আলু বিক্রি করতে হয়, তাহলে আমাদের পরিশ্রমের কোনো মূল্যই থাকবে না।
একই গ্রামের কৃষক মাসুদ (২৮) বলেন, আমরা অনেক আশা নিয়ে আলু চাষ করেছি। কিন্তু এখন বাজারে এসে দেখি ক্রেতারা কেজি ৫ টাকার বেশি দিতে চায় না। এই দামে আলু বিক্রি করলে উৎপাদন খরচও উঠবে না। এতে কৃষকদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
কৃষক শারমিন (৩০) বলেন, দিনরাত পরিশ্রম করে আলু চাষ করেছি। কিন্তু যে দাম বলা হচ্ছে তাতে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে যাবে। আমরা আলু পচিয়ে ফেলব, তবুও কেজি ৫ টাকায় আলু বিক্রি করব না।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরাও একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তারা বলেন, আলু উত্তোলনের সময় শুরু হলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় অনেক কৃষক দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কেউ কেউ আলু সংরক্ষণ করার চিন্তা করছেন, আবার কেউ বাজার পরিস্থিতি উন্নতির অপেক্ষায় আছেন।
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা
মোঃ রুবেল হুসেন বলেন, আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। বর্তমানে আলুর মৌসুম হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কিছুটা কম রয়েছে। তবে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে আলু রপ্তানি করার জন্যও সরকারের পক্ষ থেকে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। রপ্তানির সুযোগ বাড়লে বাজারে আলুর দাম স্থিতিশীল হবে এবং কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন বলে আমরা আশা করছি।
কৃষকদের দাবি, আলুর ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তারা মনে করেন, বাজারে সঠিক নজরদারি ও কৃষকবান্ধব নীতি গ্রহণ করা না হলে গঙ্গাচড়া উপজেলার অনেক কৃষক বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন।
স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী মৌসুমে অনেকেই আলু চাষ থেকে সরে যেতে পারেন, যা ভবিষ্যতে আলু উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।