২৬ চৈত্র, ১৪৩২ - ১০ এপ্রিল, ২০২৬ - 10 April, 2026

গঙ্গাচড়ায় অসহায় অসুস্থ দম্পতি: অনাহার ও চিকিৎসাহীনতায় মৃত্যুর প্রহর গোনা

1 hour ago
103


নির্মল রায়:

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় দারিদ্র্য ও অসুস্থতার করাল ছোবলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এক অসহায় দম্পতি। দীর্ঘদিনের হৃদরোগ ও অ্যাজমায় আক্রান্ত স্বামী প্রায় কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন, অন্যদিকে মেরুদণ্ডের জটিল রোগে শয্যাশায়ী স্ত্রী। চিকিৎসার অভাব, অনাহার ও নিঃসঙ্গতায় দিন কাটছে তাদের। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা না হলে যেকোনো সময় নেমে আসতে পারে ভয়াবহ বিপর্যয়।

উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের পাইকান বাঁধপাড়া গ্রামের বাসিন্দা অর্জুন চন্দ্র (৫৪) ও তার স্ত্রী কেশনা বালা (৪৮) বর্তমানে চরম দুর্দশার মধ্যে রয়েছেন। দুই কন্যাসন্তানের এই দম্পতি এখন প্রায় সম্পূর্ণ একা—কারণ মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় দেখভালের মতো কেউ পাশে নেই।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সাল থেকে হৃদরোগ ও অ্যাজমায় ভুগছেন অর্জুন চন্দ্র। গত সাত-আট বছর ধরে তিনি কার্যত কর্মক্ষম নন। কোনোভাবে তিস্তা নদীতে মাছ ধরে সামান্য যা আয় হতো, তা দিয়েই চলত সংসার।

সংসারের হাল ধরেন তার স্ত্রী কেশনা বালা। মানুষের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করে স্বামীর চিকিৎসা ও সংসারের ব্যয় চালাতেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ২০২৩ সাল থেকে তিনিও মেরুদণ্ড ও কোমরের হাড় ক্ষয়জনিত জটিল রোগে আক্রান্ত হন। গত তিন মাসে তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটেছে, বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী।

চিকিৎসকদের মতে, কেশনা বালার মেরুদণ্ড মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা ও এমআরআই (MRI) পরীক্ষা প্রয়োজন। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে তা করানো সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে তাকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্ত্রীর এমন অবস্থায় ভেঙে পড়েছেন অর্জুন চন্দ্র। নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়ায় তিনি কার্যত মৃত্যুর প্রহর গুনছেন বলে জানান প্রতিবেশীরা।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে অর্জুন চন্দ্র বলেন,

“আমি নিজেই ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারি না। এখন আমার স্ত্রীর এই অবস্থা দেখে বুকটা ফেটে যায়। ওকে চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ্য আমার নেই। আমরা কি আর বাঁচতে পারব না?”

অন্যদিকে কেশনা বালা বলেন,

“আগে মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতাম। এখন নিজের শরীরই আর চলে না। বিছানায় পড়ে আছি, কারো ওপর বোঝা হয়ে গেছি। একটু চিকিৎসা পেলে হয়তো আবার দাঁড়াতে পারতাম। আমাদের দিকে কেউ একটু তাকান।”

এলাকাবাসী জানান, স্থানীয়ভাবে কিছু অর্থ সংগ্রহ করে সামান্য ওষুধ কেনা গেলেও বড় ধরনের চিকিৎসা ব্যয় বহন করা সম্ভব হয়নি। দুই মেয়েরও আর্থিক অবস্থা দুর্বল হওয়ায় তারা সহায়তা করতে পারছেন না। ফলে চিকিৎসা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, এমনকি অনেক দিন ধরে ঘরে নিয়মিত চুলাও জ্বলছে না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ও বাসিন্দাদের মতে, দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে কেশনা বালার সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং অর্জুন চন্দ্রের জীবনও রক্ষা পেতে পারে।

এ অবস্থায় অসহায় এই দম্পতির পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, দানশীল প্রতিষ্ঠান ও স্বেচ্ছাসেবীদের প্রতি জরুরি মানবিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, সামান্য সহানুভূতি ও সহযোগিতাই পারে একটি পরিবারকে নিশ্চিত বিপর্যয় থেকে বাঁচাতে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

// Set maxWidth