গঙ্গাচড়ার নোহালী ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গরিব ও অসহায়দের মাঝে সরকারের বরাদ্দকৃত ভিজিএফ (VGF) চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় অনেক পরিবার একটি কার্ডও পাননি, আবার কেউ কেউ ১০–১২টি কার্ডের চাল উত্তোলন করেছেন।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল থেকে নোহালী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নোহালী ইউনিয়নে ঈদ উপলক্ষে মোট ৩৮.২৫০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই বরাদ্দের বিপরীতে ৩,৮২৫টি ভিজিএফ কার্ড বিতরণের কথা রয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, তালিকা প্রণয়ন ও কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের কারণে অনেক প্রকৃত দরিদ্র পরিবার কার্ড থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
এছাড়া চাল বিতরণ স্থানে তালিকাভুক্ত উপকারভোগীদের কোনো তালিকা বা কাগজপত্রও চোখে পড়েনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এতে করে প্রকৃত উপকারভোগী কারা এবং কারা চাল পাচ্ছেন তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
নোহালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এক ভুক্তভোগী অসহায় ব্যক্তি বলেন,
আমি একটা কার্ডের জন্য মেম্বার ও চেয়ারম্যানের কাছে গিয়েছিলাম, কিন্তু কোনো কার্ড পাইনি। এখানে কেউ কেউ ১০ থেকে ১২টি কার্ডের চাল তুলেছে, কিন্তু আমি একটি কার্ডও পাইনি। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এই রমজান মাসে খুবই কষ্টে দিন কাটাচ্ছি।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের যথাযথ তদারকির অভাবেই এমন অনিয়ম ঘটছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত গরিব ও অসহায়দের মধ্যে সঠিকভাবে চাল বিতরণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী। তিনি বলেন,
আমার ইউনিয়নের গরিব ও অসহায় একজন লোকও বলতে পারবে না যে তাকে চালের কার্ড দেইনি। ১০ থেকে ১২টি কার্ড দিয়ে চাল তোলার বিষয়টি ঠিক নয়। অনেক সময় দেখা যায়, কেউ কাজে বাইরে গেলে তার কার্ড অন্য কেউ তুলে দেয়। হয়তো এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সজীবুল করিম জানান, চাল বিতরণ কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে বিষয়টি যাচাই করা হবে।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন আক্তারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।