রংপুরে পুলিশের হাতে আটক ২১৪ বস্তা সারের দায় নিচ্ছেন না কেউ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রংপুরে পুলিশের হাতে আটক হওয়া ২১৪ বস্তা সরকারী গুদামের সারের দায় নিচ্ছেন না কেউ। গুদাম কর্মকর্তারা বলছেন গুদাম থেকে সরকারী নিয়নীতি অনুযায়ী ডিলারদের কাছে সার সরবরাহের কথা, গেটের বাহিরে কি হচ্ছে তার দায় আমাদের নয়। অপরদিকে সার ভর্তি ট্রাকসহ আটক হওয়া চালককে জিজ্ঞাসাবাদসহ ঘটনার নেপথ্যে জড়িতের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ। সার কালোবাজারীর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
জানা যায়, গত ১৯ জানুয়ারী/২০২৬ রংপুর মেট্রোপলিটন পরশুরাম থানার সামনে রংপুর হইতে গঙ্গাচড়া রোডে যাওয়ার পথে একটি সন্দেহভাজন ট্রাক (রংপুর-ড-১১০০৭৩) আটক করে পুলিশ, পরে ট্রাকে থাকা ২১৪ বস্তা টিএসপি, ডিএপি, এমওপি সার উদ্ধারসহ চালক মানিক মিয়াকে আটক করে। সরকারী গুদাম থেকে কিভাবে কালোবাজারে যাচ্ছিলো সার এনিয়ে এক মাসের অধিক সময় ধরে তদন্ত করছে পুলিশ। ২১৪ বস্তার মধ্যে ৮০ বস্তা টিএসপি ও ১৩৪ বস্তা ডিএপি ও এমওপি সার রয়েছে। এদিকে সার গুদামের দায়িত্বশীলরা বলছেন, ১৯ জানুয়ারী বিএডিসি কালিবাড়ি কেল্লাবন্দ সারগুদাম থেকে গঙ্গাচড়ার ডিলার রাকিবুল ইসলাম এবং লালবাগ সার গুদাম থেকে পীরগাছার ডিলার মমদেলের কাছে তাদের বরাদ্দকৃত সার সরবরাহ করা হয়েছে। ডিলাররা তাদের প্রাপ্ত সার পেলেও আটক হওয়া সারটি কার সে বিষয়ে জানেন না কোন গুদাম কর্মকর্তা।
পরশুরাম থানার এসআই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাহাদাত হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা সার ভর্তি ট্রাকটি আটক করি। সেখানে ২১৪ বস্তা সার রয়েছে যা কালোবাজারে বিক্রির জন্য নেয়া হচ্ছিল। পরে ট্রাক চালক মানিক নামে একজনকে গ্রেফতার করি। তার জবানবন্দির সূত্র ধরে আমাদের কার্যক্রম চলছে আসা করছি অল্প সময়ের মধ্যে আসল কালোবাজারিকে শনাক্ত করতে পারবো।
জানতে চাইলে কালিবাড়ি কেল্লাবন্দ সারগুদামের উপ-সহকারী পরিচালক জিয়াউর রহমান (স্টর কিপার) বলেন, আমার এই গুদাম হতে গত ১৯ জানুয়ারী ডিলার রাকিবুলের নামে একটি ট্রাক সার লোড হয়ে বের হয়েছে সেখানে ৮০ বস্তা টিএসপি ছিলোনা। কালোবাজারী এই সারের ব্যাপারে আমি কিছুই বলতে পারছি না।
অপরদিকে লালবাগ সারগুদামের উচ্চতর গুদাম রক্ষক মোস্তাফিজার রহমান বলেন, আমার এই গুদাম হতে সেদিন অনেক গাড়ি লোড হয়েছে তার মধ্যে মমদেল নামে একজন ডিলারের ১৩৪ বস্তা অভিযুক্ত মানিকের গাড়িতে করে বের হয়। পরে আমি জানা মাত্র মমদেল ডিলারকে ফোন দিলে ডিলার সার বুঝিয়া পেয়েছে বলে আমাকে অবগত করে। কালোবাজারের এই সার সম্পর্কে আমি কিছু বলতে পারবো না।
এদিকে কয়েকজন কৃষক বলেন, আমরা সার পাইনা, সার নিতে গেলে দশ টাকার সার বারো টাকা দিয়ে নিতে হয়। তার কারণ এগুলোই আমরা মনে করি ফসলের উৎপাদন অব্যহত রাখতে সার কালোবাজারীর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
জানতে চাইলে মেট্রোপলিটন পরশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাজিবুল বলেন, সারের ট্রাক আটক ঘটনায় তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে যারাই দোষী হোক না কেনো তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সিরাজুল ইসলাম বলেন, সারের বিষয়ে আমাদের অভিযান অব্যহত রয়েছে। এ ব্যপারে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। পরশুরাম থানায় সারসহ ট্রাক আটক ঘটনায় কালোবাজারির ক্ষেতে তদন্ত করে যারাই দোষী হবে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এদেরকে ছার দেয়ার কোনো সুযোগ নেই।