বুড়িমারী স্থলবন্দরে অবৈধ পাথর ক্রসিং মেশিনে ফলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে
পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি :
পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই বুড়িমারী স্থলবন্দর ও আশপাশ এলাকায় কয়েক শতাধিক বিদ্যুৎচালিত পাথর ক্রসিং (স্টোন ক্রাশার) মেশিন চালু রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব মেশিন থেকে অতিরিক্ত শব্দদূষণ, ধুলাবালু ও বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে স্থানীয় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রেললাইন, মহাসড়ক ও বসতবাড়ি ঘেঁষে গড়ে উঠেছে অধিকাংশ পাথর ক্রসিং কারখানা। ভারী যন্ত্রপাতির অবিরাম শব্দ ও কম্পনে আশপাশের বাড়িঘরে ফাটল ধরার আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা। একই সঙ্গে রেল লাইন দিয়ে ট্রেন ও মহাসড়ক দিয়ে ভাড়ি যানবাহন চলাচলের সময় পাথর ক্রসিং মেশিনের উচ্চ শব্দের কারনে পথচারীরা দূর্ঘটনার শিকার হয়ে মৃত্যুবরন করছে। নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে স্থানীয়দের।
পাথর ভাঙার সময় উচ্চমাত্রার শব্দ ও ধুলিকণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে মরনব্যাধি সিলোকোসিস, শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, চোখ জ্বালাপোড়া ও শ্রবণ সমস্যার ঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার কাছাকাছি এসব মেশিন চলায় শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
অধিকাংশ কারখানায় উচ্চক্ষমতার বৈদ্যুতিক মোটর ব্যবহার করা হয়, যা বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ করে। কিছু ক্ষেত্রে অবৈধ সংযোগ বা অনিয়মিত লোড ব্যবস্থাপনার অভিযোগও রয়েছে। এতে জাতীয় গ্রিডের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী শিল্পকারখানা স্থাপনের আগে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ ও ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, বহু কারখানায় কোনো ধরনের পরিবেশগত অনুমোদন ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রেললাইন, মহাসড়ক ও বসতবাড়ি থেকে নির্ধারিত দূরত্ব বজায় রেখে শিল্প স্থাপন নিশ্চিত করতে হবে। তারা দ্রুত অভিযান চালিয়ে অবৈধ মেশিন বন্ধ, বৈধতার কাগজপত্র যাচাই এবং আবাসিক এলাকা থেকে এসব কারখানা সরিয়ে নিয়ে নির্দিষ্ট পাথর ক্রসিং জোন করার দাবি জানিয়েছেন।
পাথর ক্রসিং মেশিন দ্বারা পরিবেশের বিপর্যয় হচ্ছে এমন উল্লেখ দ্রুত অবৈধ পাথর ক্রসিং মেশিন বন্ধের জন্য পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর গত ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি মো: আব্দুল কুদ্দুস ও আহিদুল ইসলাম নামে দুই ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে উপজেলা প্রশাসন এখনও কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করে নি। তবে ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বুড়িমারী আমদানি ও রপ্তানি কারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সম্পাদক তাদের অফিসিয়াল প্যাডে পাথর ক্রসিং মেশিন বন্ধের পাঁয়তারা একছে একটি মহল মর্মে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পরিবেশ ও জনস্বার্থ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।