২১ আষাঢ়, ১৪৩৩ - ০৫ জুলাই, ২০২৬ - 05 July, 2026

চিলমারীতে বাড়ছে আতঙ্ক, ১০ দিনে তিন ঘটনায় উদ্বেগ

10
2026-07-05 19:31:41

news-picture

চিলমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে তিনটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় জনমনে তীব্র উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তেরি হয়েছে। জনসমাগমপূর্ণ স্থান, বাজার এলাকা এবং সরকারি অফিস চত্বর থেকে একের পর এক মোটরসাইকেল চুরি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, উপজেলায় কি সংঘবদ্ধ মোটরসাইকেল চোরচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে? একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সর্বশেষ গত রোববার (৫ জুলাই) যোহরের নামাজের সময় উপজেলার একটি মসজিদের সামনে থেকে একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। এর দুই দিন আগে, ৩ জুলাই, থানাহাট বাজারের কাঁচাবাজার এলাকা থেকে একটি ডিসকাভার মোটরসাইকেল চুরি হয়। এরও আগে, গত ২৪ জুন উপজেলা পরিষদ চত্বরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থান থেকে দিনের বেলায় ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের এক কর্মচারীর আরেকটি ডিসকাভার মোটরসাইকেল চুরি হয়ে যায়। মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে তিনটি চুরির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো উপজেলায়।

সর্বশেষ চুরির শিকার আব্দুল কাদের বলেন,‘নামাজ আদায় করতে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি মোটরসাইকেল নেই। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে এমন ঘটনা ঘটবে, তা কখনো ভাবিনি।’

থানাহাট বাজার থেকে মোটরসাইকেল হারানো রফিকুল ইসলাম বলেন,‘বাজারে শত শত মানুষের উপস্থিতির মধ্যেও চুরি হয়েছে। এতে মনে হচ্ছে, চোরচক্র পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা মেহেদী হাসান বলেন,‘আগে চিলমারীতে এমন ঘটনা খুব কম ঘটত। এখন মানুষ নিজের সম্পদের নিরাপত্তা নিয়েই শঙ্কিত। চোরদের ধরতে না পারলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাদকসেবী ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে রাতের বেলায় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনবহুল এলাকায় পুলিশি টহলও পর্যাপ্ত নয়। ফলে অপরাধীরা সহজেই সুযোগ নিচ্ছে বলে দাবি তাদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে চোর শনাক্ত বা চুরি যাওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধারে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখতে পাননি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এ বিষয়ে চিলমারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার বলেন,‘সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে মামলা হয়নি। আগের একটি মোটরসাইকেল চুরির মামলা নিয়ে কাজ চলছে। হরিপুর সেতু চালু হওয়ার পর পার্শ্ববর্তী এলাকার অপরাধীরা এই পথ ব্যবহার করে থাকতে পারে বলে ধারণা করছি।’

সর্বশেষ

জনপ্রিয়