২৫ আষাঢ়, ১৪৩৩ - ০৯ জুলাই, ২০২৬ - 09 July, 2026

গঙ্গাচড়ায় খাদ্য নিয়ন্ত্রককে ৭ দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে ইউএনওর নির্দেশ:কৃষকদের বঞ্চিত করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান ক্রয়ের অভিযোগ

118
2026-07-09 15:56:18

news-picture

নির্মল রায়:

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা খাদ্য গুদামে সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে অনিয়ম, দুর্নীতি ও উৎকোচ বাণিজ্যের অভিযোগের পর প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। আমাদের প্রতিদিন  পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি আমলে নিয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত চেয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার স্বাক্ষরিত এক পত্রে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোছা. উম্মে কুলছুমা খাতুনকে অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর আগে গত ৭ জুলাই আমাদের প্রতিদিন  পত্রিকায় গঙ্গাচড়া উপজেলা খাদ্য গুদামে সরকারি ধান সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হয়। একই দিনে আলহাজ্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতার রহমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহের কথা থাকলেও বাস্তবে স্থানীয় ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও চালকল মালিকদের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। ফলে প্রকৃত কৃষকরা সরকারি নির্ধারিত মূল্যের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

লিখিত অভিযোগে গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম খানের বিরুদ্ধে কৃষকদের ধান গ্রহণে অনীহা, বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের অভিযোগ আনা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রতি টনে কয়েক হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির পেছনে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোছা. উম্মে কুলছুমা খাতুনেরও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ধান সরবরাহকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা যাচাই করা হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলেও তিনি দাবি করেন।

স্থানীয় একাধিক কৃষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরকারি গুদামে ধান বিক্রির জন্য নিবন্ধন করেও তারা কাঙ্ক্ষিত সুযোগ পাননি। অনেককে বারবার গুদামে গিয়ে যোগাযোগ করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে তারা বাজারে কম দামে ধান বিক্রি করেছেন। অন্যদিকে কিছু ব্যবসায়ী সহজেই ধান সরবরাহের সুযোগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগের পর প্রশাসনের ব্যাখ্যা তলবের ঘটনায় বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তারা বলছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন। স্থানীয়দের দাবি, শুধু লিখিত ব্যাখ্যা গ্রহণেই সীমাবদ্ধ না থেকে ধান সরবরাহকারীদের তালিকা, কৃষক নিবন্ধন তথ্য, গুদামে জমা হওয়া ধানের উৎস, অর্থ লেনদেনের রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনা হোক। পাশাপাশি অভিযোগের সত্যতা মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। লিখিত জবাব পাওয়ার পর বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সর্বশেষ

জনপ্রিয়