২৩ আষাঢ়, ১৪৩৩ - ০৭ জুলাই, ২০২৬ - 07 July, 2026

‘ওই ঘাটে যান, ফিরে আসতে পারেন কিনা দেখেন’: এমপির বক্তব্যে তোলপাড়

12
2026-07-07 18:54:45

news-picture

চিলমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামের চিলমারী নদীবন্দরের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় তার দেওয়া ৭ মিনিট ১০ সেকেন্ডের একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

জানাযায়, গত সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে চিলমারী ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে পোর্ট অফিসার পুতুল চন্দ্রের সামনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এমপি।

ভাইরাল ভিডিওতে সংসদ সদস্যকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি ওই ঘাটে যান। ফিরে আসতে পারেন কিনা দেখেন। আমি এমপি বলে গেলাম। আমাকে লাগবে না। আমি কোনো নির্দেশও দেব না, কিছুই বলব না। আমি জনগণকে নিয়ে লড়ি। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করি।’

একপর্যায়ে তিনি অভিযোগ করেন, ঘাটে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার পরিবর্তে যাত্রীদের কাছ থেকে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এ সময় পোর্ট অফিসারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘৫০ টাকার ভাড়া ২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। এগুলো কি আপনার চোখে পড়ে না? এ বিষয়ে কখনো প্রতিবাদ করেছেন বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন?

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, পোর্ট অফিসারের বিরুদ্ধে নৌযান থেকে অতিরিক্ত খাজনা আদায় এবং মাছ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও অর্থ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, এসব বিষয়ে তাঁর কাছে তথ্য রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিষয়গুলো তিনি উত্থাপন করবেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চিলমারী নদীবন্দরের পোর্ট অফিসার পুতুল চন্দ্র বলেন, ‘ভিডিওতে যা দেখেছেন, তাই। এর বাইরে আমার কিছু বলার নেই।’

এদিকে এমপি’র প্রকাশ্যে হুমকি দেয়ার ভিডিও ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা দেখা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন,‘কেউ অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু একজন সংসদ সদস্যের প্রকাশ্যে একজন সরকারি কর্মকর্তাকে এভাবে হুমকি দেওয়া সমীচীন নয়।’

চিলমারী উপজেলা জামায়াতের আমির নুর আলম মুকুল বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ নেই। ঘাটের ইজারা, খাজনা ও নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা এমন স্থানে টানাতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই দেখতে পারেন। তিনি বলেন, নদীবন্দরের অনিয়মের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার এখতিয়ার সংসদ সদস্যের রয়েছে।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জজ কোর্টের আইনজীবী সাইদুর রহমান সাইদ বলেন,‘প্রকাশ্যে কাউকে হুমকি দেওয়া আইনত অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা যদি মনে করেন তিনি ভীতি প্রদর্শন বা হুমকির শিকার হয়েছেন, তাহলে প্রচলিত আইনে প্রতিকার চেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার সুযোগ রয়েছে।’

বক্তব্যের বিষয়ে জানতে সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,‘আমি বর্তমানে সংসদ ভবনের একটি কর্মসূচিতে আছি।’

সর্বশেষ

জনপ্রিয়