১ শ্রাবণ, ১৪৩৩ - ১৬ জুলাই, ২০২৬ - 16 July, 2026

খাদ্য নিয়ন্ত্রকের জবাব, অনিয়ম অস্বীকার; তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জোরালো গঙ্গাচড়ায় সরকারি ধান সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে নতুন বিতর্ক

61
2026-07-16 15:55:12

news-picture

নির্মল রায়:

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা খাদ্য গুদামে সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে অনিয়ম, দুর্নীতি ও কৃষকদের বঞ্চিত করার অভিযোগের ঘটনায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় লিখিত জবাব দিয়েছে। তবে জবাবে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করা হলেও কৃষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সংশ্লিষ্টদের মৌখিকভাবে সতর্ক করেছেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোছা. উম্মে কুলছুমা খাতুনের কাছে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত চেয়ে পত্র দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ জুলাই উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় তাদের লিখিত জবাব জমা দেয়।

সূত্র জানায়, জবাবে সরকারি ধান সংগ্রহে অনিয়ম, দুর্নীতি, ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান ক্রয় এবং উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তবে কৃষকদের সঙ্গে আচরণগত কিছু ত্রুটির বিষয়টি স্বীকার করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। জবাব পর্যালোচনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মৌখিকভাবে সতর্ক করেন।

উল্লেখ্য, গত ৭ জুলাই স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আখতার রহমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহের কথা থাকলেও বাস্তবে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও চালকল মালিকদের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। এতে প্রকৃত কৃষকরা সরকারি নির্ধারিত মূল্যের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

অভিযোগে গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম খানের বিরুদ্ধে কৃষকদের ধান গ্রহণে অনীহা, বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ এবং প্রতি টনে কয়েক হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়। একই সঙ্গে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়।

এদিকে, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের জবাবের পরও অভিযোগকারীসহ স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতার রহমান বলেন, “শুধু জবাব নেওয়ার মাধ্যমে বিষয়টি শেষ করা উচিত হবে না। অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।”

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরাও একই দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে ধান সরবরাহকারীদের তালিকা, কৃষক নিবন্ধন তথ্য, গুদামে জমা হওয়া ধানের উৎস এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়গুলো যাচাই করা প্রয়োজন।

গঙ্গাচড়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আপেল মাহমুদ বলেন, “তাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা তদন্ত করলে সত্যতা পাওয়া যাবে। শুধু জবাব নিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগগুলো যাচাই এবং প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, “সংশ্লিষ্ট দপ্তর লিখিত জবাব দিয়েছে। জবাব পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং তাদের সতর্ক করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়