৭ শ্রাবণ, ১৪৩৩ - ২২ জুলাই, ২০২৬ - 22 July, 2026

তিস্তার করাল গ্রাসে গঙ্গাচড়ার কাচাড়িপাড়া: নদীগর্ভে বসতভিটা, নিঃস্ব হচ্ছে পরিবার পানি কমলেও বাড়ছে ভাঙন, বিলীন ৮ বসতবাড়ি ও শত বিঘা ফসলি জমি

101
2026-07-22 19:24:00

news-picture

নির্মল রায়:

তিস্তার ভাঙন যেন থামছেই না। রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের চর নোহালী কাচাড়িপাড়া গ্রামে প্রতিদিনই নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। গত কয়েক দিনের তীব্র ভাঙনে অন্তত আটটি বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। একই সঙ্গে শত শত বিঘা আবাদি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন বহু কৃষক। পানি কমতে শুরু করলেও তিস্তার ভাঙন আরও ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটছে নদীপাড়ের মানুষের।

বুধবার সরেজমিনে চর নোহালী কাচাড়িপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, তিস্তার প্রবল স্রোতে নদীতীরের বিশাল অংশ ধসে পড়ছে। অনেক বাড়ির আঙিনা ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। কোথাও কোথাও ভাঙন বসতঘরের মাত্র কয়েক হাত দূরে পৌঁছে গেছে। ফলে পরিবারগুলো ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। কেউ টিন খুলে নিচ্ছেন, কেউ ঘরের কাঠামো ভেঙে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। আবার অনেকেই গৃহস্থালির মালামাল নিয়ে আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন।

স্থানীয়রা জানান, বন্যার পানি কমতে শুরু করার পর থেকেই ভাঙনের গতি বেড়েছে। বর্তমানে তিস্তার পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও তীব্র স্রোতের কারণে প্রতিনিয়ত নদীতীর ভেঙে পড়ছে। এতে নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলহাজ্ব মোত্তালিব, সুরুজ মিয়া ও আনোয়ার হোসেনসহ অন্তত আটটি পরিবারের বসতবাড়ি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়া শত শত বিঘা আবাদি জমি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অসংখ্য কৃষক। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে আরও বহু বাড়িঘর ও ফসলি জমি।

ক্ষতিগ্রস্ত আলহাজ্ব মোত্তালিব বলেন, “চোখের সামনে আমার বসতভিটা নদীতে চলে গেল। সারাজীবনের সঞ্চয় এক মুহূর্তে শেষ হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব, তা জানি না।”

সুরুজ মিয়া বলেন, “ভিটেমাটি হারিয়ে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে পরিবার নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে।”

আনোয়ার হোসেন বলেন, “নদী আমার ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। এখন সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।”

নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী বলেন, “ভাঙনের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ইতোমধ্যে কয়েকটি বসতবাড়ি ও বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। জরুরি ব্যবস্থা না নিলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।”

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, “ভাঙনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।”

এদিকে ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দারা দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙনরোধ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং দীর্ঘদিনের দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে কাচাড়িপাড়াসহ আশপাশের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়