৭ শ্রাবণ, ১৪৩৩ - ২২ জুলাই, ২০২৬ - 22 July, 2026

বয়স সংশোধনের শত শত আবেদন আটকে থাকার অভিযোগ, ভোগান্তিতে জনসাধারণ; অভিযোগ অস্বীকার ইউএনওর

102
2026-07-22 19:25:54

news-picture

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কার্যালয়ে জন্ম নিবন্ধনের বয়স সংশোধন সংক্রান্ত প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ আবেদন দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় পড়ে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, বয়স সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে আবেদন করার পরও অনেক আবেদনকারী মাসের পর মাস অপেক্ষা করছেন। ফলে চাকরির আবেদন, পাসপোর্ট তৈরি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি এবং বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণে তারা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন আবেদনকারী জানান, তারা চার থেকে পাঁচ মাস আগে বয়স সংশোধনের আবেদন জমা দিয়েছেন। কিন্তু এখনো কোনো সিদ্ধান্ত বা অগ্রগতির বিষয়ে অবগত করা হয়নি। বারবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ তাদের।

এক আবেদনকারী বলেন, “প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দিয়েছি। কয়েক মাস ধরে অফিসে ঘুরছি, কিন্তু এখনও আবেদন নিষ্পত্তি হয়নি। বয়সের ভুলের কারণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।”

স্থানীয় একটি ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, শুধু ওই ইউনিয়ন থেকেই প্রায় ১২০ থেকে ১৩০টি বয়স সংশোধনের আবেদন বর্তমানে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন গ্রামের মানুষ আবেদনগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে ইউনিয়ন পরিষদে যোগাযোগ করছেন। বিষয়টি জনস্বার্থে গণমাধ্যমে তুলে ধরা প্রয়োজন বলেও মত দেন তারা।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নের আবেদনগুলো যুক্ত করলে এ সংখ্যা ৫০০ থেকে ৬০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আবেদন যাচাই-বাছাই, প্রয়োজনীয় তদন্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে অনেক আবেদন দীর্ঘদিন ঝুলে থাকতে পারে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বয়স সংশোধনের আবেদন নির্ধারিত নীতিমালা ও ক্যাটাগরি অনুযায়ী যাচাই করা হয়। যেসব আবেদন বিধিমালার আওতায় পড়ে, সেগুলো সাধারণত এক সপ্তাহ থেকে এক মাসের মধ্যেই নিষ্পত্তি করা হয়। তবে অনেক আবেদন রয়েছে, যেগুলো বিধিমালার শর্ত পূরণ করে না। সেসব ক্ষেত্রে সংশোধনের সুযোগ থাকে না। আবেদনকারীরা অনেক সময় অনুমোদনের আশায় আবেদন করে থাকেন, কিন্তু নিয়মের বাইরে গিয়ে কোনো আবেদন অনুমোদন করা সম্ভব নয়। আমার দপ্তরে এসব কাজ নিয়মিতভাবে সম্পন্ন করা হয় এবং কোনো আবেদন ইচ্ছাকৃতভাবে পেন্ডিং রাখা হয় না।”

সচেতন মহলের দাবি, জনদুর্ভোগ কমাতে বয়স সংশোধনের আবেদনগুলো দ্রুত যাচাই-বাছাই করে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি আবেদনকারীদের আবেদন প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত অবহিত করার ব্যবস্থাও গ্রহণ করা উচিত।

স্থানীয়রা দ্রুত এসব আবেদন নিষ্পত্তির মাধ্যমে ভোগান্তির অবসান ঘটাতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়