৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ - ১৭ মে, ২০২৬ - 17 May, 2026

রংপুর অঞ্চলের রাজবংশী ভাষা সংরক্ষণে তৈরি হচ্ছে অভিধান

17
2026-05-17 14:14:37

news-picture

প্রহলাদ মন্ডল সৈকত, রাজারহাট(কুড়িগ্রাম):  

রংপুর অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী রাজবংশী ভাষা শিক্ষিত সমাজের ব্যবহারে ক্রমশ হারিয়ে যেতে বসেছে। অথচ প্রায় ২ কোটি মানুষের মুখের ভাষা হিসেবে এখনও এই ভাষা জীবন্ত রয়েছে গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের মাঝে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষিতদের একটি অংশ রাজবংশী ভাষাকে অবহেলা করে “মূর্খদের ভাষা”হিসেবে দেখলেও, বাস্তবে এই ভাষায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠী তাদের দৈনন্দিন জীবন, সংস্কৃতি ও অনুভূতির প্রকাশ ঘটিয়ে আসছে। গান, কবিতা, গল্প ও প্রবাদ-প্রবচনের মাধ্যমে রাজবংশী ভাষা বহন করছে সমৃদ্ধ লোকঐতিহ্য।

ইতিহাস বিশ্লেষণে জানা যায়, রাজবংশী ভাষার উৎপত্তি ইন্দো-আর্য ভাষাগোষ্ঠীর মাগধী প্রাকৃত থেকে। পরবর্তীতে এটি বঙ্গ-কামরূপী অপভ্রংশে রূপান্তরিত হয়ে স্বতন্ত্র ভাষাগত রূপ লাভ করে। ফলে ভাষাটিকে প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী একটি ভাষা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

রাজবংশী ভাষার লোকসাহিত্যে রয়েছে নানা ধারা-ভাওয়াইয়া গান, কুষাণ গান, তুক্ষা গান, মেছেনি গান, বিষহরী গান, চোর-চুন্নী গান, উত্তরবঙ্গের বিয়ের গান, লাহাংকারী গান, মারাঘুরা/দাইঘুরা/পালাটিয়া গান এবং ধামের গান। এসব গানে উঠে আসে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাপন, সুখ-দুঃখ ও সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি।

ভাষাটির স্বকীয়তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে “রাজবংশী ভাষা সাংবিধানিক স্বীকৃতি পরিষদ”। সংগঠনটির উদ্যোগে বর্তমানে প্রণয়ন করা হচ্ছে ‘রংপুরী রাজবংশী ভাষার অভিধান’।

অভিধানটির প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের লেখক, গীতিকার প্রণব কুমার সত্যব্রত। সহযোগী সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন ভাওয়াইয়া গীতিকার ও শিল্পী কল্যান চন্দ্র শীল, প্রভাত রঞ্জন রায় এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের একটি শিক্ষার্থী দল।

সংশ্লিষ্টরা জানান, অভিধানটি প্রকাশিত হলে রাজবংশী ভাষার খাঁটি দেশীয় শব্দসমূহ সংরক্ষণ, গবেষণা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। একইসঙ্গে ভাষাটির মর্যাদা পুনরুদ্ধার এবং বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়